ওঙ্কার ডেস্ক: পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় শান্তিচুক্তিতে স্বাক্ষর করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত স্থির করেছিল ইরান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। আগামী ১৯ জুন উভয় পক্ষের সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে শান্তিচুক্তিতে স্বাক্ষর করার কথা। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্টের খামখেয়ালিপনায় সেই চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ফ্রান্সে আয়োজিত জি৭ সম্মেলন থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তেহরান যদি ‘সঠিক আচরণ’ না করে, তবে তিনি আবারও বোমা হামলার অভিযান শুরু করতে পারেন। সেই সঙ্গে তিনি বলেন, সংঘাত অবসানের লক্ষ্যে ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকটি চূড়ান্ত নয়।
ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘এটি চূড়ান্ত নয়। এটি কেবল একটি সমঝোতা স্মারক। যদি আমার এটি পছন্দ না হয় কিংবা ইরান যদি ঠিকঠাক আচরণ না করে, তবে আমরা সোজা তাদের মাথার ওপর বোমা ফেলা শুরু করব… কারণ গত ৪৭ বছর ধরে তারা দুর্ব্যবহার করে আসছে।’ জি-৭ সম্মেলনে যোগ দিতে ফ্রান্সে পৌঁছানোর পর থেকেই ইরানের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে আসছিলেন ট্রাম্প। তিনি দাবি করে, ‘বিশ্বজুড়ে এক অর্থনৈতিক মন্দা’ রোধ করেছেন তিনি—যার পক্ষে কিছু ‘বোকা লোক’ কথা বলেছিল। তবে ‘বোকা’ বলে কাদের বোঝাতে চেয়েছেন তা স্পষ্ট করেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
উল্লেখ্য, গত ১৫ জুন ইরান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মৌখিকভাবে শান্তিচুক্তিতে সম্মত হয়। আগামী ১৯ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে তাতে স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইরানের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল যৌথ ভাবে হামলা করে। তার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। যুযুধান দুই পক্ষের মধ্যে শান্তিচুক্তি সম্পন্ন হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সঙ্কট অনেকটা কমবে বলে আশাবাদী অর্থনীতি পর্যবেক্ষকরা।