ওঙ্কার ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চিনের মধ্যে দীর্ঘদিনের বাণিজ্য সংঘাত কিছুটা প্রশমিত হতে চলেছে। কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এবং চিনের ভাইস-প্রিমিয়ার হে লিফেং একটি প্রাথমিক বাণিজ্য কাঠামো নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছেন। এই কাঠামো চুক্তির ফলে আপাতত দুই দেশের মধ্যে ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের সম্ভাবনা কিছুটা হলেও কমে এসেছে।
সূত্রের খবর, আলোচনায় মূলত গুরুত্ব পেয়েছে দুই দেশের রপ্তানি-আমদানি ভারসাম্য, চিনের ‘রেয়ার আর্থ’ বা ‘দুর্লভ খনিজ পদার্থ’ রপ্তানি এবং মার্কিন কৃষিপণ্য আমদানি সংক্রান্ত ইস্যুগুলি। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চিন যদি প্রযুক্তি ও খনিজ রপ্তানির ক্ষেত্রে নমনীয় নীতি গ্রহণ করে, তবে আমেরিকাও তাদের পণ্যের ওপর প্রস্তাবিত ১০০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর স্থগিদ রাখবে। দুই দেশের আধিকারকেরা সাংবাদিকদের জানান, “আলোচনাটি ছিল অত্যন্ত ফলপ্রসূ, এবং দুই দেশই পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে নভেম্বর মাসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠকে এই কাঠামো চুক্তিকে আনুষ্ঠানিক রূপ দিতে চান”।
বেসেন্ট বৈঠকের পরে সাংবাদিকদের জানান, “এটি একটি গভীর ও বাস্তবসম্মত কাঠামো, যা দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করবে।” তিনি আরও বলেন, “এই আলোচনার লক্ষ্য ছিল সংঘাত নয়, বরং সহযোগিতার মাধ্যমে উভয় দেশের স্বার্থ রক্ষা করা।” অপরদিকে চিনের ভাইস-প্রিমিয়ার হে লিফেংও আশা প্রকাশ করেন যে, “এই চুক্তি দুই দেশের মধ্যে আস্থা পুনরুদ্ধার করবে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে ভারসাম্য ফিরিয়ে আনবে।”
বৈঠকে আরও আলোচনা হয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফেন্টানিল মাদক সমস্যায় চিনের ভূমিকা নিয়ে। যুক্তরাষ্ট্র চায়, চিন এই বিষয়ে আরও কড়া পদক্ষেপ নিক এবং অবৈধ রাসায়নিক রপ্তানি রোধে সক্রিয় ভূমিকা পালন করুক। পাশাপাশি, চিনও দাবি করেছে যে, তাদের অর্থনীতিতে অপ্রয়োজনীয় শুল্ক আরোপ করলে তা উভয় দেশকেই ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সমঝোতা চুক্তি কেবল বাণিজ্যিক সম্পর্ককেই নয়, প্রযুক্তি সরবরাহ ও কাঁচামাল বাজারকেও প্রভাবিত করবে। কারণ, ‘রেয়ার আর্থ’ খনিজ পদার্থই আধুনিক প্রযুক্তি যেমন স্মার্টফোন, বৈদ্যুতিক গাড়ি এবং সামরিক সরঞ্জামের মূল উপাদান। এই রপ্তানি বন্ধ হলে বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তি শিল্পে বড় ধাক্কা লাগত।
আন্তর্জাতিক বাজার ইতিমধ্যেই এই ঘোষণাকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছে। শেয়ার বাজারে কিছুটা স্থিতিশীলতা এসেছে এবং বিনিয়োগকারীরা আশাবাদী যে নভেম্বর মাসের প্রেসিডেন্ট-স্তরের বৈঠকে একটি স্থায়ী চুক্তি ঘোষণা করা হতে পারে। যদিও বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কাঠামো চুক্তি কেবল অস্থায়ী স্বস্তি দিচ্ছে, মূল সমস্যাগুলির সমাধান এখনও অনেক দূরে। তবুও, যুক্তরাষ্ট্র ও চিনের এই পদক্ষেপ বিশ্ব অর্থনীতিকে এক বড় সংকট থেকে আপাতত রক্ষা করেছে।
