ওঙ্কার ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির ‘মেলোডি’ মুহূর্ত এবার সরাসরি পৌঁছে গেল শেয়ার বাজারে। একটি টফি উপহারকে ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় যতটা উন্মাদনা তৈরি হয়েছিল, ততটাই যেন উত্তেজিত হয়ে পড়লেন কিছু বিনিয়োগকারীও। ফলাফল, বুধবার আচমকাই আপার সার্কিটে পৌঁছে গেল পার্লে ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার। দিনের শেষে সংস্থার শেয়ারের দাম দাঁড়ায় ৫.২৫ টাকায়।
ঘটনার শুরু মোদীর ইতালি সফরে। জর্জিয়া মেলোনির হাতে ‘মেলোডি’ টফির প্যাকেট তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। তারপরই নেটদুনিয়ায় শুরু হয় ‘মেলোডি-মেলোনি’ উৎসব। মিম, পোস্ট, রিল সব মিলিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া কার্যত টফিময় হয়ে ওঠে। আর সেই আবেগেই বোধহয় কিছু লগ্নিকারী ধরে নিলেন, ‘মেলোডি’ মানেই ‘পার্লে’, আর ‘পার্লে’ মানেই বাজারে টাকা ঢালার সুবর্ণ সুযোগ।
সমস্যা হল, যে সংস্থার শেয়ার কিনে আপার সার্কিট লাগিয়ে দেওয়া হল, সেই পার্লে ইন্ডাস্ট্রিজের সঙ্গে ‘মেলোডি’ টফির দূরদূরান্ত পর্যন্ত কোনও সম্পর্ক নেই। জনপ্রিয় ওই টফি তৈরি করে পার্লে প্রোডাক্টস। আর পার্লে ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবসা মূলত রিয়েল এস্টেট, ইনফ্রাস্ট্রাকচার ও রিসাইক্লিং ঘিরে। অর্থাৎ টফি খেতে খেতে কেউ যদি ফ্ল্যাট বা স্ক্র্যাপ ব্যবসায় বিনিয়োগ করে ফেলেন, তার দায় বাজারও নেবে না।
মোদী-মেলোনি ও ‘মেলোডি’ টফিকে ঘিরে তৈরি হওয়া সোশ্যাল মিডিয়ার উন্মাদনা শেষ পর্যন্ত প্রভাব ফেলল শেয়ার বাজারেও। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে এখন আর সংস্থার ব্যালান্স শিট, ব্যবসার ধরন বা আর্থিক রিপোর্ট দেখে বিনিয়োগ করার দিন নেই ভাইরাল মিমই যেন নতুন মার্কেট অ্যাডভাইজর। নাম মিললেই শেয়ার কেনার এই প্রবণতা যে কতটা ঝুঁকিপূর্ণ, তা ফের সামনে এল এই ঘটনায়।