ওঙ্কার ডেস্ক: শুধু মানুষ নয়, গরমে নাজেহাল অবস্থা পশুপাখিদেরও। সেই পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই এবার বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করেছে আলিপুর চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। গরমের হাত থেকে প্রাণীদের রক্ষা করতে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
চিড়িয়াখানা সূত্রে খবর, গরমে সবচেয়ে বেশি সমস্যা হয় ডিহাইড্রেশন এবং হিট স্ট্রোকের। তাই পশুপাখিদের শরীরে জলের ঘাটতি যাতে না হয়, তার জন্য বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন এনক্লোজারে পর্যাপ্ত পানীয় জলের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি বসানো হচ্ছে স্প্রিঙ্কলার, যাতে নিয়মিত জল ছিটিয়ে পরিবেশ কিছুটা ঠান্ডা রাখা যায়। বিশেষ করে বাঘ, সিংহ, ভালুকের মতো প্রাণীদের জন্য এই ব্যবস্থা কার্যকর বলে মনে করছেন কর্তৃপক্ষ।
এছাড়াও খাঁচার উপরে ও আশপাশে দরমা ও ছাউনির ব্যবস্থা করা হচ্ছে, যাতে সরাসরি রোদের তাপ প্রাণীদের গায়ে না লাগে। কোথাও কোথাও কৃত্রিম ছায়ার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। চিড়িয়াখানার কর্মীরা নিয়মিত পশুপাখিদের আচরণ পর্যবেক্ষণ করছেন। কোনও প্রাণীর শরীরে অস্বাভাবিক ক্লান্তি বা অসুস্থতার লক্ষণ দেখা গেলেই দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে।
খাবারের তালিকাতেও আনা হয়েছে বদল। গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে এবং জলীয় অংশের ঘাটতি পূরণ করতে তরমুজ, শসা-সহ বিভিন্ন জলসমৃদ্ধ ফল দেওয়া হচ্ছে প্রাণীদের। তৃণভোজী প্রাণীদের ক্ষেত্রে এই পরিবর্তন ইতিমধ্যেই কার্যকর হয়েছে। অন্যদিকে মাংসাশী প্রাণীদের খাদ্যতালিকাতেও কিছু পরিবর্তনের ভাবনা রয়েছে। বিফের পাশাপাশি চিকেন বা পর্ক রাখার বিষয়েও আলোচনা চলছে বলে জানা গিয়েছে। চিড়িয়াখানার পশু চিকিৎসকরাও এই সময় বিশেষ সতর্ক রয়েছেন। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে পশুপাখিদের। প্রয়োজন অনুযায়ী দেওয়া হচ্ছে ভিটামিন ও স্যালাইন জাতীয় উপাদান। গরমের সময় যাতে কোনও প্রাণী অসুস্থ না হয়ে পড়ে, সেদিকে কড়া নজর রাখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, আলিপুর চিড়িয়াখানা দেশের অন্যতম প্রাচীন এবং জনপ্রিয় চিড়িয়াখানা। প্রতিদিন বহু দর্শনার্থী সেখানে ভিড় জমান। তবে দর্শকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এই পশুপাখিদের সুস্থ রাখতে গরমের বিরুদ্ধে লড়াই এখন চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের অন্যতম বড় দায়িত্ব হয়ে উঠেছে।