ওঙ্কার ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফের ন্যাটোর ভূমিকা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছেন। সমাজ মাধ্যমে ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় সমর্থন না থাকলে ন্যাটো কার্যত গুরুত্বহীন হয়ে পড়বে। তাঁর কথায়, “আমেরিকা পাশে না থাকলে রাশিয়া বা চিনের মতো শক্তিধর দেশগুলি ন্যাটোকে কোনও গুরুত্বই দেবে না”। এই মন্তব্যের মাধ্যমে ট্রাম্প কার্যত ট্রান্স-আটলান্টিক সামরিক জোটের শক্তি ও প্রভাব নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন।
ট্রাম্প আরও বলেন, “ন্যাটোর সদস্য দেশগুলি আদৌ যুক্তরাষ্ট্রের পাশে দাঁড়াবে কি না, তা নিয়েও সংশয় রয়েছে”। যদিও একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, “আমেরিকা ভবিষ্যতেও ন্যাটোকে সমর্থন করে যাবে”। তবে তাঁর বক্তব্যে বারবার এই অভিযোগ উঠে আসে যে, দীর্ঘদিন ধরে ন্যাটোর বেশিরভাগ সদস্য দেশ নিজেদের প্রতিরক্ষা খাতে পর্যাপ্ত অর্থ ব্যয় করেনি এবং মূল আর্থিক ও সামরিক বোঝা বইতে হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রকেই। ট্রাম্পের দাবি, তাঁর আমলেই চাপ সৃষ্টি করে সদস্য দেশগুলিকে প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়াতে বাধ্য করা হয়েছিল। তাঁর কথায়, অনেক দেশকে জিডিপির অন্তত দুই শতাংশ এমনকি পাঁচ শতাংশ পর্যন্ত প্রতিরক্ষা খাতে খরচ করতে রাজি করানো সম্ভব হয়েছিল।
এই মন্তব্যের প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে ইউরোপের দেশগুলির মধ্যে। আবার অন্যদিকে ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড নিয়ে পুরনো আগ্রহ ফের আলোচনায়। ডেনমার্কের স্বশাসিত এই অঞ্চল ন্যাটোর অন্তর্ভুক্ত একটি দেশের অংশ। ট্রাম্প অতীতে গ্রিনল্যান্ড কিনে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন, যা নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছিল আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মহলে। প্রসঙ্গত, ডেনমার্কের এই স্বশাসিত ভুখন্ড গ্রিনল্যান্ড ভৌগলিক ভাবে আমেরিকা এবং ইউরোপ মহাদেশের মধ্যবর্তী একালায় অবস্থান করে, ট্রাম্পের এই অগ্রাসনী মনোভাবকে আরও সংবেদনশীল করে তোলে। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, ন্যাটোর কোনও সদস্য দেশের ভূখণ্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এ ধরনের আগ্রাসী অবস্থান জোটের ঐক্যকে গুরুতরভাবে দুর্বল করতে পারে।
ট্রাম্পের বক্তব্যে আরও একবার ব্যক্তিগত ক্ষোভও প্রকাশ পায়। তিনি দাবি করেন, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সঙ্কট সামাল দেওয়ার পরেও তাঁকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়া হয়নি। এই প্রসঙ্গ টেনে তিনি নিজের ভূমিকার স্বীকৃতি না পাওয়ার অভিযোগ করেন। তিনি দাবী করেন তাঁর তত্ত্বাবধানেই নাকি বিশ্ব রাজনীতিতে মোট আটটি যুদ্ধ থেমেছে। সেই কারনেই ২০২৫ এর নোবেল শান্তি পুরষ্কারের যোগ্য দাবিদার ছিলেন তিনি।
