ওঙ্কার ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত নিয়ে কড়া বার্তা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়ায়িট হাউসে সাম্প্রতিক ভাষণে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান এখনই থামছে না। বরং যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা “নিজেদের সমস্ত কৌশলগত লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত” অভিযান চালিয়ে যাবে।
ট্রাম্প বলেন, ইরানকে একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছিল। কিন্তু তেহরান সেই সতর্কবার্তাকে গুরুত্ব দেয়নি। তাঁর দাবি, মার্কিন ও মিত্র বাহিনীর হামলায় ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এবং নৌ-সামরিক সক্ষমতার উপর বড় আঘাত হানা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
একই সঙ্গে ট্রাম্প ইরানের সামরিক বাহিনী ও বিশেষ করে রেভলিউশনারি গার্ড সদস্যদের উদ্দেশে বার্তা দেন “অস্ত্র নামিয়ে রাখুন।” তিনি জানান, যারা লড়াই বন্ধ করবে এবং আত্মসমর্পণ করবে, তাদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থার কথাও বিবেচনা করা হতে পারে। তবে আলোচনার প্রসঙ্গে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, “এখন কথা বলার সময় পেরিয়ে গেছে।” তাঁর বক্তব্য, পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যেখানে কূটনৈতিক সমাধানের চেয়ে সামরিক পদক্ষেপই অগ্রাধিকার পাচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট আরও ইঙ্গিত দেন, এই অভিযান কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত চলতে পারে। প্রয়োজনে সময়সীমা আরও বাড়ানো হবে বলেও জানান তিনি। এমনকি প্রয়োজনে স্থলবাহিনী ব্যবহারের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি ট্রাম্প যদিও এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পরিস্থিতির উপর নির্ভর করবে বলে উল্লেখ করেন।
এদিকে, এই সংঘাতের জেরে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে উত্তেজনা চরমে। পাল্টা হামলা ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপে পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে তেলের দামের সম্ভাব্য ঊর্ধ্বগতিকে কেন্দ্র করে। বৈশ্বিক বাজারেও তার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই কড়া অবস্থান স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে যে যুক্তরাষ্ট্র আপাতত কোনওরকম পিছু হটার পথে হাঁটছে না। বরং সামরিক চাপ বাড়িয়ে ইরানকে কৌশলগতভাবে দুর্বল করে তোলাই এখন ওয়াশিংটনের প্রধান লক্ষ্য। পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, তা এখন সময়ই বলবে। তবে আপাতত পরিষ্কার সংঘাতের আগুন নিভছে না, বরং আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাই বাড়ছে।
