ওঙ্কার ডেস্ক: অ্যামেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফের ভেনেজুয়েলা প্রসঙ্গ টেনে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে আলোড়ন তুলেছেন। সম্প্রতি তিনি ঘোষণা করেন যে ভেনেজুয়েলার আকাশসীমাকে “সম্পূর্ণভাবে বন্ধ” হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। এই মন্তব্যের পরই ট্রাম্প স্বীকার করেন, তিনি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। ঠিক কী বিষয়ে সেই আলাপ হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানাতে চাননি। কেবল বলেন, প্রয়োজনীয় সময়ে সব তথ্য প্রকাশ করা হবে।
ট্রাম্পের এই মন্তব্য ও ফোনালাপকে কেন্দ্র করে মার্কিন–ভেনেজুয়েলা সম্পর্ক নতুন করে উত্তেজনার মুখে পড়েছে। আমেরিকার দক্ষিণ ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি সাম্প্রতিক সময়ে বাড়ানো হয়েছে। যুদ্ধবিমান, রণতরী এবং অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম মজুতের খবর সামনে আসার পর থেকেই ওয়াশিংটনের উদ্দেশ্য নিয়ে বহু প্রশ্ন উঠেছে। ট্রাম্প নিজেই পরিষ্কারভাবে জানান, মাদক পাচার দমন ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনে কঠোর ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত।
এদিকে, ভেনেজুয়েলা প্রশাসন এখনও পর্যন্ত ট্রাম্প–মাদুরো ফোনালাপ নিয়ে সরকারি কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে দেশটির জাতীয় পরিষদের এক শীর্ষ সদস্য জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তারা সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন। বিদেশি শক্তির সামরিক হুমকি বা চাপ তাঁরা কোনোভাবেই মেনে নেবেন না বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
ভেনেজুয়েলার পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ উঠেছে যে মার্কিন নৌবাহীনির নৌযানগুলি সম্প্রতি তাদের আঞ্চলিক জলে উস্কানিমূলক তৎপরতা চালিয়েছে। এই অভিযোগে জাতীয় পরিষদ তদন্তের নির্দেশও দিয়েছে। ট্রাম্পের আকাশসীমা ‘বন্ধ’ করার দাবি এবং মার্কিন নৌবাহিনির গতিবিধি মিলিয়ে পরিস্থিতি আরও আগ্নেয় হয়ে উঠছে।
আন্তর্জাতিক কূটনীতিকরা মনে করছেন, ট্রাম্প–মাদুরো ফোনালাপের মধ্য দিয়ে হয়তো কোনও গোপন বোঝাপড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, আবার এটাও হতে পারে যে এই যোগাযোগ কেবল চাপ প্রয়োগের কৌশল। তবে সমগ্র লাতিন আমেরিকা এখন গভীর উদ্বেগ নিয়ে অপেক্ষা করছে এই বিরোধ কি কূটনৈতিক স্তরে থেমে যাবে, নাকি সামরিক সংঘাতের নতুন অধ্যায় শুরু হবে।
