ওঙ্কার ডেস্ক: সম্প্রতি চিনে ঘটে যাওয়া সাংহাই কোঅরপরেশন অরগানাইজেশনে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিংপিং-এর সঙ্গে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদামির পুতিন এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বৈঠক করেন। তা একপ্রকার চোখে লেগেছিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের।শুক্রবারে তিনি সমাজমাধ্যমে ‘ভারত রাশিয়াকে চিনের অন্ধকারে হারিয়ে ফেলেছি’ লিখে পোষ্ট করেছিলেন, সেই লেখার সঙ্গে ছিল এসসিও সম্মেলনে তিনজনের একটি ছবিও।
রাশিয়া থেকে তেল কেনার জন্য ভারতের উপর রুষ্ট হয়েছিলেন ট্রাম্প। তাঁর মতে ভারত থেকে তেল বিক্রির টাকা ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধের কাজে লাগাছে রাশিয়া। বার বার ট্রাম্পের বারণ করা সত্ত্বেও রাশিয়া থেকে তেল কেনার জন্য ভারতের উপর ৫০% শুল্ক আরোপ করেছিল ওয়াশংটন। আর এতেই দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি ঘটতে থাকে। পাশাপাশি ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির বিষয়ে রাশিয়ার প্রেসিডন্ট পুতিনের সঙ্গে আলাস্কায় বৈঠক করেছিলেন ন্ট্রাম্প। কিবতু তাতেও কোনো সুরাহা হয়নি বলে জানান তিনি।সম্প্রতি চিনে এসসিও সম্মেলনে শি জিংপং-এর সঙ্গে মোদী এবং পুতিন আলাদাভাবে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক সারেন। তারপরই ট্রাম্প নিজের সমাজ মাধ্যমে একটি ছবি পোষ্ট করে উপরিক্ত কথাটি লেখেন। রাশিয়া ও ভারত আমেরিকার পুরানো বন্ধু। তিন দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক এবং রাজনৈতিক সম্পর্কের অনিশ্চয়তার কারনেই ট্রাম্পের এই মন্তব্য বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞ মহল।
এই পোষ্টের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাল্টে যায় ট্রাম্পের অবস্থান। নতুন বার্তায় তিনি স্পষ্ট করে দেন, ভারতকে হারাননি। বরং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের উল্লেখ করে জানান, ভারত-আমেরিকা সম্পর্ক বিশেষ জায়গায় রয়েছে। হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে ট্রাম্পকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘‘আমার মনে হয় না ভারতকে হারিয়ে ফেলেছি। তবে হ্যাঁ, ভারত রাশিয়ার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ তেল কিনছে, সেটা আমাকে হতাশ করেছে। আমি ওদের জানিয়েছি।’’ সঙ্গে যোগ করেন, ‘‘ভারতের উপর আমরা ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছি। এটা খুবই চড়া শুল্ক।’’
মোদীর সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে তিনি বলেন, ‘‘মোদীর সঙ্গে আমার সম্পর্ক খুবই ভাল। আপনারা জানেন, কয়েক মাস আগেই তিনি এখানে এসেছিলেন। আমরা রোজ গার্ডেনে সাংবাদিক বৈঠকও করেছি।’’ ভবিষ্যতে সম্পর্ক মেরামতের প্রশ্নে ট্রাম্পের জবাব, ‘‘আমি সব সময় প্রস্তুত। সব সময় মোদীর বন্ধু থাকব। উনি খুব ভাল প্রধানমন্ত্রী। বন্ধুত্ব সব সময় থাকবে। শুধু এই মুহূর্তে যা করছেন, সেটা আমার পছন্দ হচ্ছে না।’’ ফলে দিনের শুরুতে ভারত নিয়ে তিক্ত মন্তব্য করলেও শেষ পর্যন্ত সম্পর্কের গুরুত্বের কথাই জোর দিয়ে তুলে ধরলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট।
