ওঙ্কার ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপ করা অতিরিক্ত আমদানি শুল্ক বা ট্যারিফ নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র আইনি জটিলতা। সম্প্রতি মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, যদি সুপ্রিম কোর্ট নিম্ন আদালতের রায় বহাল রাখে তবে সরকারকে প্রায় অর্ধেক ট্যারিফ রিফান্ড করতে হবে। তাঁর কথায়, এই প্রক্রিয়া মার্কিন কোষাগারে ভয়াবহ আঘাত হবে।
ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক জরুরি ক্ষমতা আইন ব্যবহার করে প্রায় সব বাণিজ্যিক অংশীদারের উপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছিলেন। প্রশাসনের দাবি ছিল, এই ট্যারিফ আমেরিকার অভ্যন্তরীণ শিল্পকে সুরক্ষা দেয় এবং বিদেশি পণ্যের উপর নির্ভরতা কমায়। তবে ফেডারেল সার্কিট কোর্ট অব আপিলস রায় দেয়, প্রেসিডেন্টের এই পদক্ষেপ আইনসিদ্ধ নয় এবং তিনি সাংবিধানিক ক্ষমতার সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছেন। যদিও আদালত রায় কার্যকর করার সময়সীমা ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত রেখেছে, যাতে প্রশাসন সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি সুপ্রিম কোর্ট নিম্ন আদালতের রায় বহাল রাখে, তবে সরকারকে এ বছর সংগৃহীত প্রায় ১৮০ বিলিয়ন ডলারের ট্যারিফ আয়ের প্রায় অর্ধেক ফেরত দিতে হবে। এই টাকা ফেরত যাবে মূলত আমদানিকারক কোম্পানিগুলির কাছে, সাধারণ ভোক্তাদের কাছে নয়। বেসেন্ট বলেছেন, এটি ট্রেজারির জন্য ভয়ঙ্কর হবে। তবে তিনি এ-ও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে প্রশাসনের হাতে ট্যারিফ আরোপের অন্য পথও রয়েছে। যদিও এই সঙ্কট ট্রাম্পের আন্তর্জাতিক দরকষাকষির ক্ষমতাকে দুর্বল করে দিতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
এই পরিস্থিতির ফলে মার্কিন ঋণ বাজার ও বন্ড মার্কেটে অস্থিরতা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে আমেরিকার প্রধান বাণিজ্য অংশীদার দেশগুলো, বিশেষ করে চীন ও ভারত, ঘটনাপ্রবাহের দিকে নিবিড় দৃষ্টি রাখছে। কারণ ট্যারিফ প্রত্যাহার বা রিফান্ড হলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ধারা উল্লেখযোগ্যভাবে বদলে যেতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, এই মামলা শুধু আমেরিকার অর্থনীতির উপরই নয়, বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থার উপরও গভীর প্রভাব ফেলতে চলেছে। আগামী অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে আদালতের রায়ই নির্ধারণ করবে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক কৌশল কোন পথে এগোবে।
