ওঙ্কার ডেস্ক: পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের (পিওকে) রাজনৈতিক পরিস্থিতি নতুন করে অশান্ত হয়ে উঠেছে। নির্বাচনকে ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ, প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ এবং নির্বাচন বয়কটের ডাককে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিক্ষোভে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, যৌথ আওয়ামি অ্যাকশন কমিটির নেতৃত্বে সংগঠিত ‘লং মার্চ’ কর্মসূচি দমন করতে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে। এই সংঘর্ষে অন্তত ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এছাড়াও বহু মানুষ আহত হয়েছেন এবং শতাধিক আন্দোলনকারীকে আটক করা হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গিয়েছে।
জেএএসি-র অভিযোগ, পিওকে-তে অনুষ্ঠিত নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে পরিচালিত হয়নি। নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় ব্যাপক কারচুপি, ভোটারদের উপর চাপ সৃষ্টি, প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ এবং বিরোধী মতকে দমন করার অভিযোগ তুলে তারা নির্বাচন বয়কটের ডাক দেয়। সংগঠনের দাবি, জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা এবং স্বচ্ছ নির্বাচনের দাবিতেই এই আন্দোলনের সূচনা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, হাজার হাজার মানুষ বিভিন্ন জেলা থেকে মুজাফফরাবাদের উদ্দেশে লং মার্চে অংশ নেন। পথে পথে বিক্ষোভকারীদের আটকানোর চেষ্টা করে নিরাপত্তা বাহিনী। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, প্রথমে কাঁদানে গ্যাস ছোড়া হয়, পরে লাঠিচার্জ এবং শেষ পর্যন্ত গুলিও চালানো হয়। সংঘর্ষ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং একাধিক এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। বহু বিক্ষোভকারী গুলিবিদ্ধ হন বলে অভিযোগ উঠেছে। আহতদের নিকটবর্তী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকদের একাংশ জানিয়েছেন, বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। অন্যদিকে, বহু আন্দোলনকারীকে গ্রেপ্তার করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ তুলেছে জেএএসি।
ঘটনার পর পিওকের একাধিক সংবেদনশীল এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং বেশ কয়েকটি এলাকায় জনসমাবেশের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। কিছু এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা সীমিত করা হয়েছে বলেও স্থানীয় সূত্রে খবর, যাতে বিক্ষোভ আরও ছড়িয়ে না পড়ে।