ওঙ্কার ডেস্ক: রাজ্যে স্বেচ্ছায় দান করা রক্ত ও প্লাজমা পাচারের অভিযোগে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে বৃহৎ আকারে তদন্ত শুরু করেছে পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্যদপ্তর। কলকাতা-সহ রাজ্যের একাধিক জেলায় সরকারি ও বেসরকারি ব্লাড ব্যাঙ্ক, হাসপাতাল এবং রক্ত সংরক্ষণ ও সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে একযোগে অভিযান চালানো হয়েছে। তদন্তকারীদের সন্দেহ, দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র নিয়ম ভেঙে দান করা রক্ত ও প্লাজমার একটি অংশ রাজ্যের বাইরে পাচার করছিল।
স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি বিভিন্ন ব্লাড ব্যাঙ্কের রেকর্ড খতিয়ে দেখতে গিয়ে রক্ত সংগ্রহ, সংরক্ষণ এবং বিতরণের তথ্যের মধ্যে একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়ে। কোথাও মজুতের পরিমাণের সঙ্গে নথির মিল পাওয়া যায়নি, আবার কোথাও রক্ত ও প্লাজমা সরবরাহের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় তথ্য অসম্পূর্ণ ছিল। এরপরই গোটা বিষয়টির তদন্তে বিশেষ দল গঠন করে একাধিক জায়গায় একযোগে তল্লাশি শুরু করা হয়। অভিযানের সময় তদন্তকারী আধিকারিকরা ব্লাড ব্যাঙ্কগুলির স্টক রেজিস্টার, দাতাদের নথি, রক্তের ইউনিট সংরক্ষণের তথ্য, পরিবহণ সংক্রান্ত নথিপত্র, অনুমোদনের কাগজপত্র এবং ডিজিটাল রেকর্ড খতিয়ে দেখেন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্লাড ব্যাঙ্কের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক, কর্মী এবং রক্ত সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তদন্তকারীরা জানতে চেষ্টা করছেন, দান করা রক্ত কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে, কোন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং তার বাইরে কোনও বেসরকারি সংস্থা বা অন্য রাজ্যে বেআইনিভাবে সরবরাহ করা হয়েছে কি না।
তদন্তের স্বার্থে রাজ্যের আরও কয়েকটি জেলায় অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। একইসঙ্গে সমস্ত লাইসেন্সপ্রাপ্ত ব্লাড ব্যাঙ্কের রক্ত সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিতরণ প্রক্রিয়া আরও কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে যাঁদের বিরুদ্ধে অনিয়ম বা বেআইনি লেনদেনের প্রমাণ মিলবে, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে স্বাস্থ্যদপ্তর।