ওঙ্কার ডেস্ক: ইয়েমেনে ফের ভয়াবহ হামলা চালাল হুথি বিদ্রোহীরা। মধ্যপ্রাচ্যে যখন সামগ্রিকভাবে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে, ঠিক সেই সময় ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। ঘটনায় অন্তত ৩০ জন ইয়েমেনি সেনার মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। হামলায় আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। ফলে দীর্ঘদিন ধরে গৃহযুদ্ধ ও রাজনৈতিক অস্থিরতায় জর্জরিত ইয়েমেনে নতুন করে সংঘাত বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জানা গিয়েছে, ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর অবস্থান লক্ষ্য করে হুথিদের পক্ষ থেকে ধারাবাহিক হামলা চালানো হয়। ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে সামরিক ঘাঁটি এবং সেনাদের অবস্থানগুলিকে নিশানা করা হয় বলে খবর। হামলার তীব্রতায় বেশ কয়েকটি এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। হামলার দায় স্বীকার করেছে হুথি গোষ্ঠী। তাদের দাবি, সরকারি বাহিনীর সামরিক তৎপরতার জবাব দিতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। হুথিদের বক্তব্য, ইয়েমেনের বিভিন্ন এলাকায় তাদের বিরুদ্ধে সামরিক প্রস্তুতি চলছিল। সেই প্রস্তুতির পাল্টা জবাব হিসেবেই সরকারি বাহিনীর ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছে। তবে হুথিদের দাবি করা হতাহতের সংখ্যা এবং ইয়েমেন সরকারের দেওয়া পরিসংখ্যানের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।
ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী ও হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে সংঘাত দীর্ঘদিনের। ২০১৪ সালে হুথিরা রাজধানী সানা-সহ দেশের বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে নেওয়ার পর পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে ওঠে। পরের বছর ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন করে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোট সামরিক অভিযান শুরু করে। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে সংঘর্ষ চলতে থাকে। এই যুদ্ধে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং বিপুল সংখ্যক মানুষ ঘরছাড়া হয়েছেন। ২০২২ সালে যুদ্ধবিরতির পর ইয়েমেনে বড় ধরনের সংঘর্ষ অনেকটাই কমে এসেছিল। যদিও দুই পক্ষের মধ্যে রাজনৈতিক ও সামরিক বিরোধ পুরোপুরি মেটেনি। মাঝে মাঝেই বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। সাম্প্রতিক এই হামলা সেই অস্থিরতাকেই ফের সামনে নিয়ে এসেছে। ফলে যুদ্ধবিরতির পর তৈরি হওয়া আপেক্ষিক শান্তি কতটা টিকবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।