ওঙ্কার ডেস্ক : ইজরায়েল ইরান যুদ্ধে এবার পশ্চিম এশিয়ার সীমা ছাড়িয়ে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশ এই যুদ্ধকে বিরাট আন্তর্জাতিক সংকটে পরিণত হয়েছে। শনিবার রাতেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমান ইরানের আকাশসীমায় ঢুকে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পরমাণু কেন্দ্রে বোমাবর্ষণ করে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই এই হামলার খবর নিশ্চিত করেছেন। তাঁর বিবৃতিতে জানানো হয়, ইরানের ‘নাতানজ়’, ‘ইসফাহান’ ও ‘ফোরদো’ পরমাণু কেন্দ্রে বোমাবর্ষণ করা হয়েছে এবং “যতক্ষণ না বিশ্ব নিরাপদ হয়, ততক্ষণ আমাদের অভিযান চলবে।” মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জানায়, এই কেন্দ্রগুলি ভবিষ্যতের পারমাণবিক বিপদের কেন্দ্র হয়ে উঠছিল।
তবে এই হামলাকে ‘আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন’ বলে কড়া ভাষায় নিন্দা করেছে ইরান। ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যমে সম্প্রচারিত এক বার্তায় বলা হয়েছে, “আমাদের আকাশসীমা পার করে যে হামলা হয়েছে, তার পরিণতি ভয়ঙ্কর হবে। আমেরিকার মদতেই এই যুদ্ধ শুরু হয়েছে, কিন্তু এর শেষ আমরাই করব”।

ইরানের শীর্ষ নেতা হোসেইন শরিয়তমাদারি আরও এক ধাপ এগিয়ে বাহরাইনে মার্কিন নৌঘাঁটি লক্ষ্য করে প্রতিশোধমূলক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করেছে। একইসঙ্গে তাঁর হুঁশিয়ারি, “আমেরিকান, ব্রিটিশ, জার্মান ও ফরাসি জাহাজগুলির জন্য হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিতে হবে”। তাঁর মতে, বিলম্ব না করে এখনই পদক্ষেপ নেওয়ার সময়। ইরান জানিয়েছে, এই হামলার জেরে শুধু সেনা নয়, এখন থেকে পশ্চিম এশিয়ায় থাকা প্রতিটি আমেরিকান নাগরিকও তাদের নজরদারির মধ্যে থাকবে। সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে ইরান বলেছে, “এর শেষ দেখে ছাড়ব। প্রতিটি আক্রমণের জবাব যথাযথ ভাবে দেওয়া হবে।”
ইরানঘনিষ্ঠ ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী ইতিমধ্যেই আমেরিকাকে সতর্ক করেছিল, যদি তারা ইজরায়েলের পাশে দাঁড়িয়ে এই সংঘাতে ঢোকে, তবে মার্কিন জাহাজগুলিকে টার্গেট করবে তারা। এখন প্রশ্ন উঠছে, হুথিরা কি এবার সরাসরি সামরিকভাবে ইরানের পাশে দাঁড়াবে? সে ক্ষেত্রে পশ্চিম এশিয়ায় বহু দেশ এই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়তে পারে, যা বিশ্ব রাজনীতিতে ভয়াবহ প্রভাব ফেলবে বলেই আশঙ্কা করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
ইরান এই মুহূর্তে সামরিক ও কূটনৈতিক দুই রাস্তাতেই প্রতিক্রিয়া জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে সংবাদমাধ্যমের খবর। হরমুজ প্রণালী বন্ধ হলে তেলের আন্তর্জাতিক সরবরাহ বিপর্যস্ত হতে পারে, যার ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বড়সড় ধাক্কা খেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আনলে এটি খুব দ্রুতই পুরোমাত্রার আন্তর্জাতিক যুদ্ধে পরিণত হতে পারে।
