ওঙ্কার ডেস্ক: পাকিস্তানের করাচি শহরে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলেট জেনারেল অফিসের সামনে তীব্র বিক্ষোভ ঘিরে রক্তক্ষয়ী পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক পশ্চিম এশিয়া পরিস্থিতি এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা খামেনেইয়ের মৃত্যুর খবরে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন ইসলামি সংগঠন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে। সেই ক্ষোভ থেকেই করাচিতে মার্কিন কনস্যুলেট ঘেরাওয়ের ডাক দেওয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, কয়েকশো বিক্ষোভকারী কনস্যুলেটের বাইরে জড়ো হয়ে প্রথমে স্লোগান দিতে শুরু করেন। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একসময় বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ ব্যারিকেড ভেঙে কনস্যুলেট চত্বরে প্রবেশের চেষ্টা করে। কনস্যুলেট ভবনের বাইরের প্রাচীর ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ভাঙচুরের অভিযোগও উঠেছে।
এই পরিস্থিতিতে কনস্যুলেটের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা মার্কিন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাও ছিলেন। তাঁদের উপর গুলি চালায় বলে অভিযোগ। মার্কিন প্রশাসনের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, কনস্যুলেট চত্বরে জোরপূর্বক ঢোকার চেষ্টা রুখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। তবে গুলি সরাসরি বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে চালানো হয়েছিল কিনা, তা নিয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা মেলেনি।
অন্যদিকে, পাকিস্তানের স্থানীয় পুলিশ ও রেঞ্জার্সও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। সংঘর্ষে বহু মানুষ আহত হন এবং একাধিক মৃত্যুর খবরও সামনে এসেছে। আহতদের দ্রুত করাচির বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ঘটনার পর গোটা এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়েছে। পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে ঘটনার তদন্তের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে মার্কিন প্রশাসনও জানিয়েছে, কূটনৈতিক স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাদের প্রথম অগ্রাধিকার।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আমেরিকা এবং ইসরায়েলর ইরানের উপর হামলা ঘিরে সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলিতেও পড়ছে। করাচির এই ঘটনা সেই বৃহত্তর অস্থিরতারই প্রতিফলন। পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে এলেও উত্তেজনা পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি বলে প্রশাসনিক সূত্রের খবর।
