ওঙ্কার ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমশই জটিল ও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে ইরান ও ইসরায়েলের সংঘাত। সাম্প্রতিকতম ঘটনায় ইরান ইসরায়েলের একাধিক এলাকায় ক্লাস্টার ওয়ারহেডযুক্ত মিসাইল হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে। এই হামলার পরই পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় উঠে এসেছে, ইসরায়েলের আকাশে একাধিক বিস্ফোরণের ঝলক দেখা যায়। মিসাইলগুলি লক্ষ্যভেদ করার পর একাধিক ছোট ছোট বিস্ফোরণে বিভক্ত হয়ে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এই ধরনের ক্লাস্টার অস্ত্রের বিশেষত্বই হল, একটি মিসাইল থেকে বহু সাব-মিউনিশন বেরিয়ে বিস্তীর্ণ এলাকায় আঘাত হানে, যার ফলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি হয় এবং সাধারণ নাগরিকরাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে পড়ে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই হামলায় সংঘাত এখন আরও বিধ্বংসী অস্ত্র ব্যবহারের দিকে এগোচ্ছে। ক্লাস্টার মিউনিশন আন্তর্জাতিকভাবে অত্যন্ত বিতর্কিত, কারণ এর প্রভাব শুধু তাৎক্ষণিক বিস্ফোরণে সীমাবদ্ধ থাকে না অনেক ক্ষেত্রে অবিস্ফোরিত অংশ মাটিতে থেকে যায়, যা পরে বিস্ফোরিত হয়ে দীর্ঘমেয়াদে প্রাণহানি ঘটাতে পারে।
ইসরায়েলের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ এলাকা এই হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে বলে জানা গেছে। বিস্ফোরণের শব্দ ও আকাশে আগুনের ঝলক স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। অনেক জায়গায় সতর্কতা জারি করা হয় এবং বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে বলা হয়। উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা শুরু করে।
এই হামলাকে ইসরায়েলের আগের সামরিক পদক্ষেপের পাল্টা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি আক্রমণ চলছিল, যার জেরে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছিল। বিশেষ করে সামরিক ও কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার ঘটনায় এই সংঘাত আরও তীব্র হয়ে ওঠে।
আন্তর্জাতিক মহলেও এই পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, যদি এই ধরনের হামলা অব্যাহত থাকে, তাহলে সংঘাত আরও বড় আকার নিতে পারে এবং তা গোটা মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন দেশে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।
