ওঙ্কার ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইর মৃত্যুকে ঘিরে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন তৈরি হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছেন আমেরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প । এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কূটনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে, ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা কে হতে পারেন, তা নিয়েও শুরু হয়েছে আলোচনা।
ইরানের রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার করে আসছিলেন আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। দেশের সামরিক, বিচার বিভাগ ও গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্তের চূড়ান্ত ক্ষমতা তাঁর হাতেই ছিল। সাম্প্রতিক মার্কিন-ইজরায়েলি হামলায় তিনি নিহত হয়েছেন বলে দাবি করে ট্রাম্প জানান, এটি একটি ‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত’, যা ইরানের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে একাধিক পোস্ট করে ট্রাম্প খামেনেইকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, ইরানের জনগণের জন্য এটি নিজেদের ভবিষ্যৎ পুনর্গঠনের বড় সুযোগ। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, খামেনেইর উত্তরসূরি কে হতে পারেন তা তিনি জানেন, তবে প্রকাশ্যে কোনও নাম উচ্চারণ করেননি। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে খানিকটা রসিকতার সুরে তিনি মন্তব্য করেন, “এক সময় হয়তো ওরাই আমাকে জিজ্ঞেস করবে কাকে নেতা হিসেবে দেখতে চাই।” যদিও পরে তিনি জানান, মন্তব্যটি আংশিকভাবে ব্যঙ্গাত্মক ছিল।
ওয়াশিংটনের দাবি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইল যৌথভাবে ইরানের সামরিক ও কৌশলগত অবকাঠামোয় আঘাত হেনেছিল। সেই অভিযানে খামেনেই ছাড়াও একাধিক শীর্ষ সামরিক ও প্রশাসনিক আধিকারিক নিহত হয়েছেন।
ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর পর নতুন নেতা নির্বাচন করে বিশেষ ধর্মীয় পরিষদ বিশেষজ্ঞ দল। বিশিষ্ট আলেম ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের নিয়ে গঠিত এই পরিষদই দেশের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব নির্ধারণের সাংবিধানিক ক্ষমতা রাখে। তবে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই প্রক্রিয়া কতটা মসৃণ হবে, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকরা। ইরানের অভ্যন্তরে রক্ষণশীল ও সংস্কারপন্থী শিবিরের দ্বন্দ্ব নতুন নেতৃত্ব বাছাইকে জটিল করে তুলতে পারে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।
আন্তর্জাতিক মহলেও এই ঘটনার প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। একদিকে পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা বৃদ্ধি, অন্যদিকে পরমাণু চুক্তি ও কূটনৈতিক আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল। ট্রাম্প অবশ্য দাবি করেছেন, নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করা “এখন অনেক সহজ” হতে পারে।
