ওঙ্কার ডেস্ক: ২০২৬ সালের প্রথম মহাকাশ অভিযানে সোমবার শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টার থেকে উৎক্ষেপণ করা হয় ইসরোর পিএসএলভি–সি৬২ রকেট। এই অভিযানের মূল পেলোড ছিল ‘অন্বেষা’ নামের একটি অত্যাধুনিক আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইট, যা ভারতের মহাকাশ গবেষণায় নতুন মাত্রা যোগ করার লক্ষ্যেই পাঠানো হয়েছে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী রকেটটি উৎক্ষেপণ হলেও অভিযানের সময় কিছু প্রযুক্তিগত জটিলতা সামনে আসে, যা নিয়ে পরে বিশদ বিশ্লেষণ শুরু করে ইসরো।
পিএসএলভি–সি৬২ অভিযানের মাধ্যমে ইসরো মূলত উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন হাইপারস্পেকট্রাল ইমেজিং প্রযুক্তির পরীক্ষা ও ব্যবহারিক প্রয়োগের দিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। ‘অন্বেষা’ স্যাটেলাইটটি ভূ-পৃষ্ঠের নানা উপাদান বিশ্লেষণ, কৃষি, বনাঞ্চল পর্যবেক্ষণ, খনিজ অনুসন্ধান, পরিবেশগত পরিবর্তন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করতে সক্ষম। এই স্যাটেলাইটের মাধ্যমে একাধিক তরঙ্গদৈর্ঘ্যে ছবি তুলে মাটির গঠন, ফসলের স্বাস্থ্য এবং প্রাকৃতিক সম্পদের অবস্থান সম্পর্কে সূক্ষ্ম তথ্য সংগ্রহ করা যাবে বলে জানানো হয়েছে।
এই অভিযানে ‘অন্বেষা’র পাশাপাশি একাধিক ক্ষুদ্র স্যাটেলাইটও রকেটের মাধ্যমে মহাকাশে পাঠানো হয়, যেগুলির মধ্যে কিছু ভারতীয় স্টার্টআপ এবং বিদেশি সংস্থার তৈরি। এর ফলে বাণিজ্যিক ও বেসরকারি মহাকাশ উদ্যোগে ভারতের অংশগ্রহণ আরও জোরদার হবে বলে মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে এই উৎক্ষেপণ ভারতের মহাকাশ প্রযুক্তির উপর আন্তর্জাতিক আস্থার প্রতিফলন হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
তবে উৎক্ষেপণের কিছু সময় পরেই পিএসএলভি–সি৬২ রকেটের তৃতীয় ধাপে প্রত্যাশিত পারফরম্যান্সে সামান্য বিচ্যুতি ধরা পড়ে। ইসরোর তরফে জানানো হয়, এই বিচ্যুতির ফলে স্যাটেলাইটগুলি তাদের নির্ধারিত কক্ষপথে সঠিকভাবে স্থাপিত হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযানের সমস্ত টেলিমেট্রি ডেটা বিশ্লেষণ করে পরিস্থিতি স্পষ্ট করার কাজ চলছে।
ইসরো কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে উৎক্ষেপণ প্রক্রিয়া স্বাভাবিকভাবেই সম্পন্ন হয়েছে এবং কোনও বড় ধরনের বিপর্যয়ের ইঙ্গিত মেলেনি। তবুও, ভবিষ্যতের অভিযানে যাতে এ ধরনের সমস্যা না ঘটে, সে জন্য প্রতিটি ধাপ খতিয়ে দেখা হবে। ২০২৬ সালের প্রথম মহাকাশ অভিযানে প্রযুক্তিগত সাফল্যের পাশাপাশি এই ধরনের চ্যালেঞ্জ ইসরোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাও বয়ে আনবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
