ওঙ্কার ডেস্ক: ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে। কয়েক দিন আগে শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়ার জটিলতা দেখা দেওয়ায় তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। প্রথমে সিসিইউতে রাখা হলেও চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে কিছুটা স্থিতিশীলতা আসায় পরে তাঁকে এইচডিইউ-তে স্থানান্তর করা হয়।
হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর শুরু কয়েক দিন তাঁর অবস্থা বেশই উদ্বেগজনক ছিল। বয়সজনিত দুর্বলতার পাশাপাশি দীর্ঘদিনের লিভার, কিডনি, ডায়াবেটিস এবং হৃদ্যন্ত্র–সংক্রান্ত সমস্যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছিল। চিকিৎসকেরা জানান, শ্বাসপ্রশ্বাসের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে আনতে তাঁকে বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল। ধীরে ধীরে তাঁর দেহ চিকিৎসায় সাড়া দিতে শুরু করে। কয়েক দিনের ব্যবধানে তিনি সামান্য নড়াচড়া করতে পারছেন, এমনকি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত কথাও বলেছেন।
তবে এই উন্নতি সত্ত্বেও চিকিৎসকেরা সতর্ক। তাঁদের মতে, খালেদা জিয়ার অবস্থা এখনও সংবেদনশীল এবং যেকোনও সময় তা বদলে যেতে পারে। জটিল রোগের তালিকা দীর্ঘ হওয়ায় চিকিৎসা প্রক্রিয়াও অত্যন্ত সংবেদনশীল। বিদেশে নিয়ে গিয়ে উন্নত চিকিৎসা করানোর বিষয়ে পরিবারের ইচ্ছা থাকলেও চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, বর্তমান শারীরিক অবস্থায় বিদেশ যাত্রা ঝুঁকিপূর্ণ। তা সত্ত্বেও, অবস্থার আরও স্থিতিশীলতা এলে লন্ডনে নেওয়ার প্রস্তুতি হিসেবে একটি এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
হাসপাতালের বাইরে রাজনৈতিক পরিবেশেও উদ্বেগের ছাপ স্পষ্ট। বিএনপি সহ বিভিন্ন বিরোধী দলের নেতারা নিয়মিত তাঁর খোঁজখবর নিচ্ছেন। দলের তরফে দেশবাসীর কাছে প্রার্থনা ও দ্রুত আরোগ্যের কামনা জানানো হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নানা আইনি এবং রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রেও পরিণত হয়েছে। তবে বর্তমান অবস্থায় পরিবার ও দলীয় নেতারা তাঁর সুস্থতাকেই প্রধান বিষয় হিসেবে দেখছেন।
চিকিৎসকদের দৈনন্দিন পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী তাঁর অবস্থা আগের থেকে কিছুটা উন্নতির পথে হলেও সম্পূর্ণ স্থিতিশীলতা আসতে সময় লাগবে। এখনও তাঁকে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং শারীরিক ওঠানামা নিবিড়ভাবে নজরে রাখা হচ্ছে। সামগ্রিকভাবে, ধীরগতির উন্নতির মাঝেও উদ্বেগ রয়ে গিয়েছে, তবে আশার আলোও দেখা দিচ্ছে।
