ওঙ্কার ডেস্কঃ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও প্রশান্ত কিশোরের ফোনে আড়ি পাতার অভিযোগ ওঠার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর আই ফোনের ক্যামেরার উপর টেপ সেঁটে দিয়েছিলেন। স্লোগান তুলেছিলেন, পেগাসাস ডেঞ্জারাস ফেরোসাস। এবার সেই একই রকমভাবে ফোনের ক্যামেরায় টেপ লাগাতে দেখা গেল, ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে।
পেগাসাস আতঙ্কে মমতা ফোনে যে টেপ লাগিয়েছিলেন, সেই স্পাইওয়্যার বানিয়েছিল ইজরায়েলের সাইবার আর্ম সংস্থা এনএসও গ্রুপ। বিশ্বজুড়ে সাইবার গোয়েন্দাগিরি ও সাইবার নিরাপত্তার জন্য পরিচিত যে দেশ, সেই দেশের প্রধানমন্ত্রী নিজে কেন ফোনের ক্যামেরা ঢেকে রাখছেন? এই নিয়ে বিস্তর প্রশ্ন উঠছে। ইজরায়েলের সরকার প্রধান, যাঁর চারপাশে সর্বক্ষণ কড়া নিরাপত্তা বলয়, অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ঘেরাটোপ, তিনিও যদি নিজের ফোনের ক্যামেরা ঢেকে রাখতে বাধ্য হন, তাহলে সাধারণ মানুষের স্মার্টফোন আদৌ কতটা নিরাপদ?
ক্যামেরা হ্যাক হওয়া কি সম্ভব? বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্যামেরা হ্যাক হওয়া সম্ভব। এই প্রক্রিয়াকে বলে ক্যামফেক্টিং। ক্যামফেক্টিং হল একটি সাইবার ক্রাইম, যেখানে হ্যাকার দূর থেকেই কারও মোবাইল বা ল্যাপটপের ক্যামেরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। ব্যবহারকারীর চোখ এড়িয়ে গোপনে ছবি তোলা, ভিডিও রেকর্ড করা বা নজরদারি চালানোই এর মূল উদ্দেশ্য।
সূত্রের খবর, জানুয়ারির শুরুতেই ইরান-ঘনিষ্ঠ হ্যাকার গোষ্ঠী ‘হান্দালা’ দাবি করে, তারা ইজরায়েলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির ফোনে ঢুকতে পেরেছে। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর চিফ স্টাফের ফোন হ্যাক হওয়ার অভিযোগ ওঠে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নেতানিয়াহুর ফোনের ক্যামেরায় টেপ লাগানো একটি চূড়ান্ত সতর্কতামূলক পদক্ষেপ।
প্রশ্ন উঠছে, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ফোনের ক্যামেরা ঢেকে রাখা, নিয়মিত সফটওয়্যার আপডেট করা, অ্যাপের অনুমতি খতিয়ে দেখা, অপ্রয়োজনীয় ক্যামেরা অ্যাক্সেস বন্ধ করা, অচেনা লিঙ্ক ও অ্যাপ এড়িয়ে চলা, পাবলিক ওয়াইফাই নিয়ে সচেতন থাকা, ভিপিএন ব্যবহার করা ইত্যাদি ‘ডিজিটাল হাইজিন’ মেনে চললেই সাধারণ ব্যবহারকারী নিরাপদ থাকতে পারেন।
