ওঙ্কার ডেস্ক: বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর ফের নৃশংস হামলার অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শরিয়তপুর জেলার ডামুড্যা এলাকায় এক সংখ্যালঘু ব্যবসায়ীকে মারধর করে আগুনে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আক্রান্ত ব্যবসায়ীর নাম খোকন চন্দ্র দাস। বয়স আনুমানিক পঞ্চাশের কাছাকাছি। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রাতে নিজের এলাকায় থাকাকালীন কয়েকজন দুষ্কৃতী আচমকাই তাঁর উপর চড়াও হয়। প্রথমে তাঁকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়। এরপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করার অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে যখন হামলাকারীরা তাঁর গায়ে দাহ্য পদার্থ ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।
আগুনে দগ্ধ অবস্থায় প্রাণ বাঁচাতে কাছের একটি পুকুরে ঝাঁপ দেন খোকন চন্দ্র দাস। স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁর চিৎকার শুনে ছুটে এসে তাঁকে উদ্ধার করেন। পরে তাঁকে প্রথমে নিকটবর্তী একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে ঢাকার একটি বড় হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, তাঁর শরীরের একাধিক অংশে গুরুতর পোড়া ক্ষত রয়েছে। আক্রান্তের পরিবারের দাবি, হামলার আগে খোকন চন্দ্র দাস দুই জন হামলাকারীকে চিনতে পেরেছিলেন। তবে জ্ঞান হারানোর আগেই তিনি আর বিস্তারিত কিছু বলতে পারেননি। পরিবার অভিযোগ করেছে, এই হামলা পরিকল্পিত এবং সংখ্যালঘু পরিচয়ের কারণেই তাঁকে টার্গেট করা হয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ এলাকায় পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে। হামলাকারীদের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। এখনও পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার হয়েছে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনও তথ্য মেলেনি। এই ঘটনার জেরে এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় সংখ্যালঘুদের উপর হামলার অভিযোগ সামনে আসায় এই ঘটনা নতুন করে সেই আশঙ্কাকেই উসকে দিল বলে মনে করছেন অনেকে।
