ওঙ্কার ডেস্ক: বর্তমানে পাঁচ দেশে সফরে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। মধ্যপ্রাচ্যের অশান্তির মাঝেই শুক্রবার তিনি সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে পৌঁছান। সেখানে গিয়ে আমিরশাহীর প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়ের আল নাহয়ানের সঙ্গে দেখা করার কথা রয়েছে তাঁর। বর্তমানে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি, দেশের তেল আমদানি, তেলের বাজার মূল্য এই সব বিষয়ে উচ্চ পর্যায়ে বৈঠক হতে পারে বলে জানা গেছে। সৌদির সফর সেরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ইউরোপের উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন। সেখানে যথাক্রমে নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, সুইডেন এবং ইটালি যাবেন তিনি।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপের আবহে পাঁচ দেশ সফরের প্রথম পর্যায়ে সংযুক্ত আরব আমিরশাহীতে পৌঁছলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সফরের মূল লক্ষ্য ভারতের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সুরক্ষা নিশ্চিত করা, বিশেষত অপরিশোধিত তেল, এলপিজি এবং কৌশলগত জ্বালানি মজুত নিয়ে আরও শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সহযোগিতা গড়ে তোলা।
বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানির মূল্য অস্থির হয়ে উঠেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে ভারতের মতো বৃহৎ জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশের উপর। এই পরিস্থিতিতে ইউএই-র সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, কারণ সংযুক্ত আরব আমিরশাহী ভারতের অন্যতম বৃহৎ তেল ও গ্যাস সরবরাহকারী দেশ। আবু ধাবিতে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে পেট্রোলিয়াম সরবরাহ, কৌশলগত তেল সংরক্ষণ, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও স্থিতিশীল ও নিরাপদ করার লক্ষ্যে নতুন সমঝোতার দিকেও জোর দেওয়া হয়েছে।
ভারতের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা মেটাতে আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব বাড়ানো এখন কেন্দ্র সরকারের অন্যতম প্রধান কূটনৈতিক লক্ষ্য। মোদির এই সফর সেই কৌশলেরই অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইউএই সফরের মাধ্যমে ভারত শুধু তেল ও গ্যাস সরবরাহ নয়, নবায়নযোগ্য শক্তি, সবুজ হাইড্রোজেন এবং অবকাঠামো বিনিয়োগ ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বৃদ্ধির পথে এগোতে চাইছে।
সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর পর প্রধানমন্ত্রী ইউরোপের একাধিক দেশ সফর করবেন, যার মধ্যে রয়েছে নেদারল্যান্ডস, সুইডেন, নরওয়ে এবং ইতালি। এসব দেশের সঙ্গে প্রযুক্তি, বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, সবুজ শক্তি এবং কৌশলগত বিনিয়োগ নিয়ে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও মজবুত করা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ভারসাম্যে ভারতের অবস্থান সুসংহত করাও এই সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য।
দেশে জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে রাজনৈতিক চাপের মধ্যেও কেন্দ্র সরকার এই সফরকে ভারতের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ও কৌশলগত নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরছে। আন্তর্জাতিক কূটনীতি, শক্তি নিরাপত্তা এবং বাণিজ্যিক স্বার্থের সমন্বয়ে মোদির এই পাঁচ দেশ সফর ভারতের বৈদেশিক নীতিতে নতুন দিশা তৈরি করতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।