ওঙ্কার ডেস্ক: অন্তর্যুদ্ধে জর্জরিত পাকিস্তান। খাইবার পাখতুনখোয়ার বাজাউর জেলায় পাকিস্তানি সেনা শিবিরে বৃহৎ জঙ্গি হামলায় রক্তাক্ত হয়ে উঠল উত্তর-পশ্চিম পাকিস্তান। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে আফগানিস্তান সীমান্ত সংলগ্ন অত্যন্ত স্পর্শকাতর এলাকায় এই হামলা চালানো হয়। নিরাপত্তা সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথমে বিস্ফোরক বোঝাই একটি গাড়ি সেনা শিবিরের প্রধান প্রবেশপথে আছড়ে ফেলা হয়। প্রবল বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা এবং সেনা ছাউনির নিরাপত্তা বলয় ভেঙে পড়ে। বিস্ফোরণের পরপরই ভারী অস্ত্র ও স্বয়ংক্রিয় রাইফেল নিয়ে একদল জঙ্গি সেনা ঘাঁটির ভিতরে ঢুকে পড়ে এবং এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে।
আচমকা এই হামলায় অন্তত ১৫ জন পাকিস্তানি সেনার মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। গুরুতর জখম হয়েছেন আরও বহু সেনাকর্মী, যাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আহতদের দ্রুত সামরিক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেনা শিবিরের একাধিক অংশ বিস্ফোরণ ও গুলিবর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘটনার পরপরই পাকিস্তানি সেনা ও নিরাপত্তাবাহিনী গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে ব্যাপক তল্লাশি ও পাল্টা অভিযান শুরু করে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, হামলাকারীরা অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে আক্রমণ চালায় এবং সীমান্তবর্তী দুর্গম ভূখণ্ডকে কাজে লাগিয়ে সেনাবাহিনীর উপর বড়সড় আঘাত হানার চেষ্টা করে। প্রাথমিকভাবে এই হামলার পেছনে তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর জঙ্গিদের হাত রয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। যদিও সরকারি স্তরে বিস্তারিত তদন্ত শুরু হয়েছে, তবে পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে টিটিপি-র হামলা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় এই সন্দেহ আরও জোরালো হয়েছে।
খাইবার পাখতুনখোয়া দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদ-প্রবণ অঞ্চলগুলির মধ্যে অন্যতম। আফগানিস্তানের সঙ্গে সীমান্তবর্তী হওয়ায় জঙ্গি সংগঠনগুলির চলাচল ও গোপন আস্তানা গড়ে তোলার জন্য এই এলাকা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ফলে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে প্রায়শই এই অঞ্চলে হামলা, বিস্ফোরণ এবং গেরিলা আক্রমণের মুখে পড়তে হয়।
সাম্প্রতিক এই হামলা পাকিস্তানের নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপর নতুন করে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। একের পর এক জঙ্গি হামলায় পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতি ক্রমশ উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। সীমান্ত সন্ত্রাসবাদ এবং জঙ্গি সংগঠনগুলির পুনরুত্থান পাকিস্তানের জন্য বড়সড় নিরাপত্তা সংকট তৈরি করছে। এই হামলার পর ইসলামাবাদে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং সীমান্তবর্তী অঞ্চলে সেনা নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে।