ওঙ্কার ডেস্ক: ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জী-৭ সম্মেলনেই শান্তি চুক্তি সেরে ফেলেছে ইরান এবং আমেরিকা। ডিজিটাল শান্তিচুক্তির খসড়া তে স্বাক্ষর করেছে দুই দেশের প্রেসেডেন্ট। চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার পর নিজের মত প্রকাশ করেলেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা মোজতবা আলি খামেনিই। তিনি জানান শান্তি চুক্তির জন্য সব থেকে মরিয়া ছিলেন ট্রাম্প নিজে। ইরানের তরফ থেকে কোন রকম আপোষ না করার বার্তা দেওয়া হয়েছিল বরাবর। মার্কিন প্রেসিডেন্টের বারংবার আবেদন এবং দেশের স্বার্থে শান্তিচুক্তিতে রাজি হয়েছে তেহরান।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের দীর্ঘদিনের উত্তেজনার আবহে সাম্প্রতিক শান্তি ও সমঝোতা চুক্তি নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সরাসরি নিশানা করে তীব্র মন্তব্য করলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই। তাঁর দাবি, চুক্তি সম্পন্ন করার জন্য ট্রাম্প প্রশাসন ‘মরিয়া’ হয়ে উঠেছিল এবং সেই লক্ষ্য পূরণে সব ধরনের কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেছে।
খামেনেই বলেন, শুরুতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার বিষয়ে সম্পূর্ণ আশ্বস্ত ছিলেন না। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে আমেরিকার প্রতিশ্রুতির উপর আস্থা রাখার ক্ষেত্রে তাঁর সংশয় ছিল। তবে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য এবং শীর্ষ সরকারি আধিকারিকরা তাঁকে বোঝান যে এই চুক্তির ফলে দেশের সার্বভৌমত্ব বা জাতীয় স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হবে না। একই সঙ্গে আঞ্চলিক মিত্রদের স্বার্থও সুরক্ষিত থাকবে বলে তাঁকে আশ্বস্ত করা হয়। এরপরই তিনি আলোচনার প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেন। খামেনেই এই চুক্তিকে আমেরিকার কূটনৈতিক সাফল্যের চেয়ে বরং ওয়াশিংটনের প্রয়োজনীয়তা হিসেবেই দেখছেন। তাঁর মতে, সাম্প্রতিক সংঘাত, আন্তর্জাতিক চাপ এবং পশ্চিম এশিয়ায় অস্থির পরিস্থিতির কারণে ট্রাম্প প্রশাসন দ্রুত একটি সমঝোতায় পৌঁছতে আগ্রহী ছিল। সেই কারণেই বিভিন্ন পর্যায়ে চাপ সৃষ্টি করে আলোচনা সফল করার চেষ্টা করা হয়েছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আরও বলেন, সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও তেহরান তার নীতিগত অবস্থান থেকে সরে আসেনি। ভবিষ্যতের আলোচনায় ইরান নিজের জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে এবং কোনও ধরনের অযৌক্তিক দাবি মেনে নেবে না। তিনি স্পষ্ট করে দেন, আলোচনার টেবিলে বসা মানেই আমেরিকার নীতি বা অবস্থানকে সমর্থন করা নয়। বরং এটি একটি বাস্তবসম্মত কূটনৈতিক পদক্ষেপ, যার মাধ্যমে সংঘাত এড়িয়ে দেশের স্বার্থ রক্ষা করার চেষ্টা করা হচ্ছে। চুক্তি অনুযায়ী আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আরও বিস্তৃত আলোচনার মাধ্যমে স্থায়ী কাঠামো তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এই সমঝোতা আপাতত দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কিছুটা কমাতে সাহায্য করলেও পারস্পরিক অবিশ্বাস এখনও পুরোপুরি দূর হয়নি। খামেনেইর সাম্প্রতিক মন্তব্য সেই বাস্তবতাকেই সামনে এনেছে। ফলে চুক্তি কার্যকর হওয়ার পরও ভবিষ্যতে আলোচনার পথ কতটা মসৃণ হবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে জল্পনা অব্যাহত রয়েছে।