ওঙ্কার ডেস্ক: ক্রমশ উত্তেজনা বাড়ছে ডুরান্ড লাইনে। এবার পাকিস্তানের ভূখণ্ডে ড্রোন হামলা চালাল আফগানিস্তান। ইসলামাবাদ সম্প্রতি বিমান হামলা চালিয়েছিল। তার জবাবে এই হামলা চালাল তালিবান। কাবুলের দাবি, এই ড্রোন হামলায় খাইবার পাখতুনখোয়া ও বেলুচিস্তানে অবস্থিত আইএসআইএস-এর সন্ত্রাসী ঘাঁটিগুলো ধ্বংস হয়েছে। আফগান ভূখণ্ডে হামলার কাজে এই কেন্দ্রগুলোকে ব্যবহার করা হচ্ছিল বলে দাবি তালিবানের।
আফগানিস্তানের তরফে দাবি করা হয়েছে, পাকিস্তান নানগারহার ও পাকটিয়ায় গত সপ্তাহে প্রাণঘাতী বিমান হামলা চালিয়েছিল। যার ফলে আফগান মহিলা ও শিশুরা নিহত হয়েছিল। সেই বিমান হামলার জবাবেই পাক ভূখণ্ডে এই ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তানের বাহিনী ‘অপারেশন গাজাব লিল-হক’ নামের সামরিক অভিযান শুরু করে। এই অভিযানের আওতায় পাকিস্তান বিমান বাহিনী সন্দেহভাজন জঙ্গিদের আস্তানায় নিখুঁত লক্ষ্যভেদী হামলা চালায়। মূলত তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান এবং ইসলামিক স্টেট-খোরাসান প্রভিন্স-কে লক্ষ্যবস্তু করে এই হামলা চালায় ইসলামাবাদ। আফগানিস্তানের নানগারহার ও পাকটিয়া প্রদেশের পাশাপাশি কাবুল ও কান্দাহারের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় এই হামলা চালানো হয়েছিল। কাবুলের দাবি, পাকিস্তানের প্রাথমিক বোমা হামলায় বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যুর পর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে আফগান তালিবান বাহিনী বড় ধরণের স্থল অভিযান শুরু করে। ডুরান্ড লাইন বরাবর পাকিস্তানের বেশ কয়েকটি সীমান্ত চৌকি ও সামরিক ঘাঁটি দখলের দাবি করে তারা; তবে এর পরেই পাকিস্তান ব্যাপক বিমান হামলা ও স্থল হামলা চালায়।
পাকটিয়ায় পাকিস্তানের বিমান হামলায় তালিবানের একটি সদর দফতর ধ্বংস হয়েছে। পাশাপাশি পাকিস্তান বিমান বাহিনীর হামলায় নানগারহারে একাধিক সামরিক ঘাঁটি, অস্ত্রাগার এবং বর্ডার ব্রিগেডের কাঠামো অকার্যকর হয়ে গিয়েছে। রাষ্ট্রসঙ্ঘের তথ্য অনুসারে, পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোতে ৯৪,০০০-এরও বেশি মানুষ নতুন করে ঘরছাড়া হয়েছে; পাশাপাশি বহু বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। এ ছাড়া স্বাস্থ্য কেন্দ্র, ধর্মীয় স্থাপনা ও মানবিক সহায়তা কেন্দ্রগুলোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।