ওঙ্কার ডেস্ক: রাজ্যে তিন দিনব্যাপী যোগ দিবস পালন করা হবে রেড রোডে, বলে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল বিজেপি সরকার। সেই বিজ্ঞপ্তিতে বলে হয়েছিল সমস্ত সরকারি কর্মীদের এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করা বাধ্যতা মূলক। সেই নির্দেশিকাকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টের দারস্থ হয়েছিল কো-অর্ডিনেশন কমিটি। এই মামলায় হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে উদ্ধৃত অনুষ্ঠানে সমস্ত সরকারী কর্মচারীদের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক নয়। যোগ দিবসে উপস্থিত না হলে তাদের বিরুদ্ধে সরকার কোন কড়া পদক্ষেপ নিতে পারবে না বলেও জানিয়েছে আদালত।
সম্প্রতি রাজ্য সরকারের তরফে একটি নির্দেশিকা জারি করা হয়েছিল, যেখানে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন সরকারি দফতর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি সংস্থার কর্মীদের যোগব্যায়াম কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। সেই নির্দেশিকার ভাষা নিয়ে আপত্তি তোলেন কিছু সরকারি কর্মী ও কর্মচারী সংগঠন। তাঁদের দাবি ছিল, নির্দেশিকাটি এমনভাবে লেখা হয়েছে যাতে অংশগ্রহণ কার্যত বাধ্যতামূলক বলে মনে হয়। এই নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে কয়েকজন আবেদনকারী হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন।
মামলার শুনানিতে রাজ্যের পক্ষ থেকে আদালতকে জানানো হয়, সরকারের উদ্দেশ্য ছিল আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং যোগব্যায়ামের উপকারিতা সম্পর্কে মানুষের মধ্যে বার্তা পৌঁছে দেওয়া। কর্মীদের উপস্থিতি উৎসাহিত করা হলেও কোনওভাবেই তা বাধ্যতামূলক করা হয়নি। রাজ্য স্পষ্ট করে জানায়, কোনও সরকারি কর্মচারী যদি ব্যক্তিগত কারণে বা অন্য কোনও কারণে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ না করেন, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে কোনও প্রশাসনিক, বিভাগীয় বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। আদালতে রাজ্যের এই বক্তব্যের ফলে কর্মচারীদের একাংশের মধ্যে যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তা অনেকটাই দূর হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে যে যোগ দিবসের অনুষ্ঠানকে স্বেচ্ছাসেবী কর্মসূচি হিসেবেই দেখা হচ্ছে এবং এতে অংশ নেওয়া সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করবে।
এদিকে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি স্তরে একাধিক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। বিশেষ করে কলকাতার রেড রোডে বৃহৎ যোগাভ্যাস অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলছে, যেখানে হাজার হাজার মানুষের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে। যোগ দিবস উপলক্ষে রেড রোদ এক সপ্তাহের জন্য বন্ধ রাখার নির্দের দেওয়া হয়েছে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে। নিরাপত্তা, যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন দফতর সক্রিয় হয়েছে।
প্রশাসনের দাবি, স্বাস্থ্য ও সুস্থতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য, কোনও কর্মচারীর উপর চাপ সৃষ্টি করা নয়। ফলে যোগ দিবসের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বাধ্যবাধকতার প্রশ্নে যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল, আদালতে রাজ্যের বক্তব্যের পর তা অনেকটাই পরিষ্কার হয়েছে।