ওঙ্কার ডেস্ক : নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর মৃতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। সম্ভাব্য জীবিতদের উদ্ধারে উদ্ধারকারী দলগুলো সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। এরই মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত এক পরিবারের আত্মীয় জানালেন,, “চোখের পলকেই বাড়িঘর সহ পরিবারের চার সদস্য ভেসে গেছে। একমাত্র জীবিত ব্যক্তি হিসেবে রক্ষা পেয়েছে তার খুড়তুতো ভাই।”
নুয়াকোট জেলায়, পরিবারের একমাত্র জীবিত সদস্য—নিজের আবেগাপ্লুত খুড়তুতো ভাইকে সান্ত্বনা দেওয়ার সময় তুলারাম গুরমির সেই মর্মান্তিক ঘটনার ভয়াবহ বিবরণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন: “সে আমার খুড়তুতো ভাই। তার পুরো পরিবার ভেসে গেছে। পরিবারের সবাই—যারা সেখানে ছিলেন—সবাই ভেসে গেছেন… তার মা, বাবা, বোন, বোনের ছেলে—সবাই ভেসে গেছে… কেবল সে-ই অল্পের জন্য বেঁচে গেছে, কারণ সে চা খেতে বাইরে বেরিয়েছিল।”
স্থানীয় ওই যুবক আরও বলেন, “ভূমিধস ধেয়ে আসতে দেখেই সে পরিবারকে সতর্ক করতে ছুটে গিয়েছিল, কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। সে তাদের বাঁচাতে পারেনি।”
গুরমির জানান, তার ভাই এখন কথা বলার মতো অবস্থায় নেই। তিনি আরও বলেন, “বাড়িঘর থেকে শুরু করে জীবিকা—পরিবারের সবকিছুই ভেসে গেছে।”
এদিকে, কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন ইউনিভার্সিটি ইনস্টিটিউট অফ মেডিসিনের মহারাজগঞ্জ মেডিকেল ক্যাম্পাসের ময়নাতদন্ত কেন্দ্রে বন্যার শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা জড়ো হয়েছেন। হাসপাতালের মর্গের বাইরে যখন পরিবারগুলো খবরের অপেক্ষায় ছিল, তখন সেখানে হতাহতদের তথ্য সম্বলিত পোস্টার দেখানো হচ্ছিল। এক ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্য বলেন: “নিরাপত্তাকর্মীরা আমাদের কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে বলেছেন। এরপর আমরা মৃতদেহ শনাক্ত করে শেষকৃত্যের জন্য নিয়ে যাব।”
জনকপুর জেলা থেকে আসা নিখোঁজ এক সেনা আধিকারিকের ভাই হাসপাতালের মর্গের বাইরে অপেক্ষারত অবস্থায় তাঁর ভাইয়ের ছবি দেখান। নিখোঁজ আরেক ব্যক্তির আত্মীয় জানান, “তিনি বেঁচে আছেন নাকি মারা গেছেন—সে বিষয়ে পরিবারের কাছে কোনো তথ্য নেই।” তিনি বলেন, “বুধবার সকাল পৌনে ৯টার দিকে তাঁর সঙ্গে আমাদের শেষ কথা হয়েছিল। এরপর আর কোনো যোগাযোগ হয়নি… এখন পর্যন্ত কিছুই জানা যায়নি।” তিনি আরও বলেন: “এখনও আমরা ফোন করছি, কিন্তু কোনো যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। কর্তৃপক্ষ বলছে যে তারা তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছে। তিনি বেঁচে আছেন নাকি মারা গেছেন—সে বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো যোগাযোগ বা তথ্য কিছুই নেই।”
এদিকে, নেপালের ন্যাশনাল ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অথরিটি জানিয়েছে, গত ২৬ আগস্টের ভয়াবহ বন্যায় এ পর্যন্ত ৭৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৫৮৯ জন বিদেশি নাগরিকসহ মোট ২,৪৯৮ জনের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।