ওঙ্কার ডেস্ক: কাঠমান্ডু ও আশপাশের শহর জুড়ে উত্তাল নেপাল। সামাজিক মাধ্যম নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত সরকারের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া প্রতিবাদ এখন ভয়ঙ্কর অগ্নিগর্ভ আকার নিয়েছে। ক্রমাগত বিক্ষোভ, সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগে গত কয়েক দিনে কমপক্ষে ১৯ জন নিহত হয়েছেন। আহতের সংখ্যা অগণিত। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন। রাজনৈতিক অস্থিরতার জেরে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে দেশ।
সরকারি সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হলেও বিক্ষোভ থামেনি। রাস্তায় রাস্তায় বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়াচ্ছে। কাঠমান্ডুতে কড়া কারফিউ জারি করা হয়েছে। লুটপাট, ভাঙচুর এমনকি কারাগার থেকে বন্দিদের পালানোর ঘটনাও ঘটেছে। এই অবস্থায় মঙ্গলবার রাত থেকেই সেনা নেমেছে রাস্তায়। সংসদ ভবন, সিংহ দরবার, বিমানবন্দর-সহ সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র দখলে নিয়েছে সেনারা। শহরের অলিগলি জুড়ে চলছে টহলদারি, বহু জায়গায় সেনা চেকপোস্ট বসানো হয়েছে।
অশান্ত পরিস্থিতির জেরে কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সমস্ত উড়ান বাতিল করা হয়েছে। ফলে বিপাকে পড়েছেন শত শত যাত্রী। ভারতীয় এয়ারলাইন্সগুলিও (এয়ার ইন্ডিয়া, ইন্ডিগো, স্পাইসজেট) একের পর এক ফ্লাইট বাতিল করছে। অনেক উড়ান লখনৌ কিংবা দিল্লিতে ঘুরিয়ে আনা হয়েছে। টিকিট কেটে রাখা যাত্রীদের রিফান্ড বা অন্য তারিখে ভ্রমণের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছে সংস্থাগুলি।
বিশ্লেষকদের মতে, নেপালের বর্তমান অস্থিরতা সাম্প্রতিক সময়ে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বড় রাজনৈতিক সঙ্কট।সরকারের অনড় মনোভাব, সেনা নামানো এবং প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগে মিলিয়ে দেশ কার্যত অনিশ্চয়তার অন্ধকারে ঢেকে গেছে। সাধারণ মানুষ একদিকে আতঙ্কে, অন্যদিকে ক্ষোভে ফুঁসছে। রাস্তায় নামা যুব সমাজকে ঠেকাতে প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপও পরিস্থিতি শান্ত করতে পারছে না।
নেপালের প্রতিবেশী ভারত পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে। সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত সতর্কতা জারি করা হয়েছে। নেপালে অবস্থানরত ভারতীয় নাগরিকদের প্রতি সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়েছে।
