ওঙ্কার ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে পরিস্থিতি। ইরানকে কেন্দ্র করে সামরিক উত্তেজনা তীব্র হওয়ার পর এবার তার সরাসরি প্রভাব পড়ল বিশ্ব জ্বালানি বাজারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নতুন করে আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম লাফিয়ে বেড়েছে।
হরমুজ প্রণালি বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ। পারস্য উপসাগর থেকে আরব সাগরে প্রবেশের একমাত্র সমুদ্রপথ এই প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাস বিশ্ববাজারে পৌঁছয়। আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থাগুলির হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বের মোট তেল পরিবহণের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সরু জলপথের উপর নির্ভরশীল। ফলে এই রুটে সামান্য অস্থিরতাও বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দিতে পারে।
সম্প্রতি ইরানকে ঘিরে সামরিক অভিযানের জেরে প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, কিছু তেলবাহী ট্যাঙ্কারকে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে এবং নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে অনেক সংস্থা বিকল্প রুট খোঁজার চেষ্টা করছে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে প্রণালিতে সাময়িকভাবে জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যেতে পারে এমন আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
এই অনিশ্চয়তার জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম দ্রুত ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রতি ব্যারেলে উল্লেখযোগ্য হারে দাম বেড়েছে। বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, উত্তেজনা দীর্ঘস্থায়ী হলে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে এবং তা ১০০ ডলার ছুঁতেও পারে। ইতিমধ্যেই এশিয়া ও ইউরোপের একাধিক দেশে জ্বালানির ভবিষ্যৎ সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
ভারতের ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি তাৎপর্যপূর্ণ। দেশের প্রায় অর্ধেকের বেশি অপরিশোধিত তেল আমদানি হরমুজ প্রণালির উপর নির্ভরশীল। ফলে এই রুটে কোনও বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটলে আমদানি খরচ বেড়ে যাওয়া স্বাভাবিক। তার প্রভাব পড়তে পারে দেশের মুদ্রাস্ফীতি, পরিবহণ খরচ এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে। যদিও সরকারি মহলের দাবি, আপাতত মজুত পর্যাপ্ত রয়েছে এবং পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে।
বিশ্ববাজারে অস্থিরতার প্রভাব শেয়ার বাজারেও পড়েছে। বিনিয়োগকারীদের একাংশ নিরাপদ সম্পদের দিকে ঝুঁকছেন। অর্থনীতিবিদদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা যদি দ্রুত না কমে, তবে শুধু তেল নয়, বৈশ্বিক বাণিজ্য ও আর্থিক বাজারেও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে।
