ওঙ্কার ডেস্ক: শনিবার রাতে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে হামলা চালায় তালিবান। হামলার পর তালিবান দাবি করেছিল ৫৮ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছন এবং ৩০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। অন্যদিকে পাকিস্তান সরকারি বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, তালিবান শাসিত আফগানিস্তানের হামলায় মোট ২৩ জন পাক সেনা নিহত হয়েছেন এবং ২৯ জন আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন। পাশাপাশি ইসলামাবাদ আরও দাবি করে পালটা পাকিস্তান সেনার হামলায় ২০০ জন তালিবানি মারা গেছে এবং সীমান্তের ১৯টি তালিবান ঘাঁটি পাক সেনার দখলে রয়েছে।
বর্তমানে তালিবান শাসিত আফগানিস্তানের বিদেশ মন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি ছয় দিনের সফরে ভারতে আছেন। উল্লেখ্য, তালিবান বিদেশমন্ত্রী মুত্তাকির উপর রাষ্ট্রসংঘ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। বিশেষ অনুমতিতে তিনি এখন ভারত সফরে। গত ৯ অক্টোবর ভারতে এসেছেন মুত্তাকি। সেদিনই আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের উপর বিমান হামলা চালায় পাকিস্তানি সেনা। তারপর দিনই আবার শুক্রবার আফগান পাকিস্তান সীমান্তবর্তী এলাকায় পকতিকা প্রদেশের মাঘরি এলাকায় বোমাবর্ষন করে পাকিস্তানি সেনা। এই ঘটনার প্রতিবাদে তালিবান প্রতিরক্ষা মন্ত্রক দিল্লী থেকে ইসলাবাদকে হুমকি দিয়ে বলে “এর ফল ভালো হবে না”। শনিবার তালিবানি সেনা পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া অঞ্চলের আঙ্গুর আড্ডা, বাজৌর, খুররম, দির, চিত্রাল এবং পাশাপাশি বালুচিস্তানের বাহরামচাহ এলাকায় হামলা চালায় তালিবানি সেনা।
পাকিস্তান অবশ্য কাবুলের দেওয়া সংখ্যাকে মেনে নেয়নি। পাকিস্তানের স্বঘোষিত ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির জানিয়েছেন, আফগানিস্তান হামলায় মোট ২৩ জন পাক সেনা নিহত এবং ২৯ জন আহত হয়েছেন। পাশাপাশি পাকিস্তান সেনার আঘাতে ২০০ জন তালিবান সেনা নিকেশ হয়েছে বলেও দাবি করে ইসলামাবাদ। আফগান পাক সীমান্তে তালিবানের মোট ১৯টি ঘাঁটি নিজেদের দখলে নিয়েছে পাকিস্তানি সেনা। মুনির আরও জানায়, পাকিস্তান হামলার নেপথ্যে আফগানিস্তান তালিবানের সঙ্গে পাকিস্তান তালিবানও সরাসরি যুক্ত ছিল। শনিবারের হামলায় ভারতের মদত ছিল বলেও দাবি করেছে পাকিস্তান।
অন্যদিকে, কাবুল প্রশাসনের বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। আফগান সরকারের মুখপাত্র জানিয়েছেন, পাকিস্তানি সেনাদের আক্রমণে তাঁদের কয়েকজন সীমান্তরক্ষী নিহত হলেও এক ইঞ্চি জমিও পাকিস্তানের দখলে যায়নি। তবে দুই পক্ষের দাবির মধ্যে পার্থক্য থাকলেও স্পষ্ট যে সীমান্তের পরিস্থিতি ক্রমশ অগ্নিগর্ভ হচ্ছে।
ডুরান্ড লাইনের এই বিতর্কিত সীমান্ত বরাবরই দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েনের কেন্দ্রবিন্দু। আফগানিস্তান বহুদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে পাকিস্তান নিয়মিত তাদের ভূখণ্ডে অনুপ্রবেশ করে এবং জঙ্গি গোষ্ঠীগুলিকে মদত দেয়। বিপরীতে পাকিস্তানের দাবি, আফগানিস্তানের ভেতর থেকে তাদের ভূখণ্ডে হামলা চালানো হচ্ছে এবং তারা তা কোনোভাবেই মেনে নেবে না। সংঘর্ষে সীমান্তবর্তী এলাকার সাধারণ মানুষ আতঙ্কে এলাকা ছাড়ছেন।
দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক এমনিতেই সংকটপূর্ণ, তার মধ্যেই এই সংঘর্ষ নতুন করে অস্থিরতা বাড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলের মতে, যদি এই সামরিক উত্তেজনা দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে তা গোটা দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে বিপদের মুখে ঠেলে দিতে পারে।
