ওঙ্কার ডেস্ক: আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেকে ‘সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগী’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা চালালেও জম্মু-কাশ্মীরে সক্রিয় পাক জঙ্গির সংখ্যা বৃদ্ধিতে উদ্বেগ আরও তীব্র হচ্ছে। ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থার সাম্প্রতিক হিসেব অনুযায়ী, বর্তমানে কাশ্মীর উপত্যকায় মোট ১৩১ জন জঙ্গি সক্রিয় রয়েছে। এর মধ্যে ১২২ জনই পাকিস্তানের নাগরিক এবং মাত্র ৯ জন স্থানীয়। এই তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই পাকিস্তান ও আমেরিকার যৌথ সন্ত্রাসবিরোধী মহড়া ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে আন্তর্জাতিক মহলে।
শীর্ষ প্রতিরক্ষা সূত্রের দাবি, শুধু জম্মু অঞ্চলেই অন্তত ৩৫ জন পাক জঙ্গি সক্রিয় রয়েছে। পীর পাঞ্জাল পর্বতমালার দক্ষিণে আবারও সন্ত্রাসের পরিকাঠামো বিস্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে পাকিস্তানের মদতপুষ্ট জঙ্গি সংগঠনগুলি। দীর্ঘদিন পর এই অঞ্চলে ফের অনুপ্রবেশ ও হামলার ছক কষা হচ্ছে বলে মনে করছে গোয়েন্দা মহল। অথচ একই সময়ে আন্তর্জাতিক সভা-সম্মেলনে পাকিস্তান নিজেদের ‘সন্ত্রাস দমনে দায়বদ্ধ’ দেশ হিসেবে তুলে ধরতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।
এই প্রেক্ষাপটেই শুরু হয়েছে পাকিস্তান ও আমেরিকার যৌথ সন্ত্রাসবিরোধী মহড়া ‘ইনস্পায়ার্ড গ্যাম্বিট ২০২৬’। দুই সপ্তাহব্যাপী এই মহড়া পাঞ্জাব প্রদেশের ন্যাশনাল কাউন্টার টেররিজম সেন্টারে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। শহুরে এলাকায় সন্ত্রাস মোকাবিলা, জটিল পরিস্থিতিতে অভিযান পরিচালনা এবং দুই দেশের বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করাই এই মহড়ার মূল লক্ষ্য বলে জানানো হয়েছে। তবে ঠিক এই সময়েই কাশ্মীরে জঙ্গি উপস্থিতির পরিসংখ্যান সামনে আসায় ইসলামাবাদের ভূমিকা নিয়ে সন্দেহ আরও গভীর হয়েছে।
মহড়ার পাশাপাশি ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী লাইন অফ কন্ট্রোল এবং আন্তর্জাতিক সীমান্ত বরাবর সন্ত্রাস দমন ও অনুপ্রবেশ রুখতে টানা অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের দিক থেকে ড্রোনের মাধ্যমে অস্ত্র ও বিস্ফোরক পাঠানোর ঘটনাও বেড়েছে বলে অভিযোগ। সেই কারণে সীমান্তজুড়ে নজরদারি আরও কড়া করা হয়েছে এবং প্রযুক্তিনির্ভর পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে।
নিরাপত্তা সংস্থাগুলির মতে, পাকিস্তানের কূটনৈতিক বক্তব্য এবং মাটির বাস্তবতার মধ্যে স্পষ্ট ফারাক রয়েছে। ভারতের বিরুদ্ধে হামলায় যুক্ত একাধিক জঙ্গি সংগঠন এখনও পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রিত এলাকা থেকেই কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছে। সেই অবস্থায় আমেরিকার মতো শক্তিশালী দেশের সঙ্গে পাকিস্তানের যৌথ সন্ত্রাসবিরোধী মহড়া তাদের দ্বিচারিতাকেই সামনে আনছে বলে মত বিশ্লেষকদের।
এই ঘটনার নেপথ্যে কূটনৈতিক সমীকরণও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। গত বছরের মে মাসে ভারত কর্তৃক সন্ত্রাসঘাঁটি লক্ষ্য করে চালানো ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর আন্তর্জাতিক মহলে চাপে পড়ে ইসলামাবাদ। সেই চাপ সামাল দিতেই ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক মেরামতের উদ্যোগ জোরদার করেছে পাকিস্তান। কূটনৈতিক মহলের একাংশের মতে, মার্কিন-পাক যৌথ মহড়াও সেই প্রচেষ্টারই অংশ, যদিও বাস্তব পরিস্থিতি পাকিস্তানের দাবিকে বারবার প্রশ্নের মুখে ফেলছে।
