ওঙ্কার ডেস্ক: আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেল সাম্প্রতিক সামরিক হামলার ঘটনায়। সোমবার গভীর রাতে আফগানিস্তান থেকে চালানো আকাশপথে হামলায় পাকিস্তান-এর একাধিক সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্যবস্তু হয় বলে জানা গেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে রাওয়ালপিন্ডি-র অবস্থিত নূর খান এয়ারবেস-এ আঘাত হানার ঘটনাকে।
স্থানীয় সূত্রে দাবি, গভীর রাতে পরপর বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে রাওয়ালপিন্ডি ও সংলগ্ন এলাকা। আকাশে ড্রোন ও যুদ্ধবিমানের গতিবিধি লক্ষ্য করা যায়। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত নূর খান এয়ারবেস, যা রাজধানী ইসলামাবাদ-এর অদূরে অবস্থিত, সেখানে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। যদিও ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে সরকারি ভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
অন্যদিকে, আফগানিস্তানের শাসকগোষ্ঠী তালিবান দাবি করেছে, এটি ছিল “প্রতিশোধমূলক ও নির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক” অভিযান। তাদের বক্তব্য, পাকিস্তান সীমান্তবর্তী আফগান অঞ্চলে সাম্প্রতিক বিমান হামলা চালিয়েছিল, যার জবাব দিতেই এই পাল্টা আঘাত। আফগান পক্ষের দাবি, তারা কেবল সামরিক স্থাপনাগুলিকেই নিশানা করেছে এবং বেসামরিক এলাকায় আঘাত এড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
পাকিস্তানের তরফে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সীমিত হলেও সামরিক সূত্রে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং প্রয়োজনে কঠোর জবাব দেওয়া হবে। নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে রাওয়ালপিন্ডি ছাড়াও কোয়েটা-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিতে। কোয়েটার কর্পস সদর দপ্তরেও সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে বলে খবর।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত সংঘর্ষ, গোলাবর্ষণ এবং আকাশসীমা লঙ্ঘনের অভিযোগে উত্তেজনা চরমে উঠেছিল। কূটনৈতিক স্তরে সম্পর্ক কার্যত তলানিতে পৌঁছেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সরাসরি সামরিক হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে এবং দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।
বর্তমানে দুই দেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় উচ্চ সতর্কতা জারি রয়েছে। আন্তর্জাতিক মহল থেকে সংযম বজায় রাখার আহ্বান জানানো হলেও স্থল ও আকাশপথে উত্তেজনা যে দ্রুত প্রশমিত হবে, সেই সম্ভাবনা আপাতত ক্ষীণ বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
