ওঙ্কার ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান ইরান-আমেরিকা উত্তেজনার আবহে নতুন করে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানা গিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য মার্কিন হামলার আশঙ্কায় তেহরান তাদের কিছু সামরিক বিমান পাকিস্তানের নুর খান এয়ারবেসে সরিয়ে রাখার অনুমতি পেয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের কাছাকাছি অবস্থিত এই গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিতে ইরানি বিমান রাখার বিষয়টি সামনে আসতেই আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সমীকরণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তান একদিকে প্রকাশ্যে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনে মধ্যস্থতার বার্তা দিচ্ছিল, অন্যদিকে গোপনে ইরানকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার মতো পদক্ষেপ নিয়েছে বলে মার্কিন আধিকারিকদের একাংশের সন্দেহ। বিশেষত, ইরানের কিছু নজরদারি ও সামরিক বিমান পাকিস্তানের ঘাঁটিতে স্থানান্তরিত হওয়ার ঘটনাকে ওয়াশিংটন অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছে। নুর খান এয়ারবেস পাকিস্তানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি, যেখানে কৌশলগত বিমান পরিচালনা ও প্রতিরক্ষা অবকাঠামো অত্যন্ত শক্তিশালী।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপ যদি সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে পাকিস্তান কার্যত দ্বিমুখী কূটনৈতিক অবস্থান নিয়েছে বলে ধরে নেওয়া হতে পারে। একদিকে আন্তর্জাতিক মহলে শান্তি প্রতিষ্ঠার আহ্বান, অন্যদিকে প্রতিবেশী দেশ ইরানের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা এই দ্বৈত ভূমিকা পাকিস্তানের পররাষ্ট্রনীতিকে নতুন বিতর্কের মুখে ফেলতে পারে। এর ফলে আমেরিকা-পাকিস্তান সম্পর্কেও চাপ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। যদিও ইসলামাবাদ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এই অভিযোগের বিষয়ে স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া দেয়নি, তবে ঘটনাটি সামনে আসার পর দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ইরানকে সরাসরি সহায়তা করার মতো পদক্ষেপ পাকিস্তানের জন্য ভবিষ্যতে কৌশলগত সুবিধা ও ঝুঁকি দুই-ই বয়ে আনতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের এই সম্ভাব্য ভূমিকা শুধু আমেরিকা-ইরান সম্পর্ক নয়, বরং গোটা অঞ্চলের নিরাপত্তা কাঠামোকেও প্রভাবিত করতে পারে। ফলে বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলে অত্যন্ত সংবেদনশীল ইস্যু হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।