ওঙ্কার ডেস্ক: কেরলে বিধানসভা নির্বাচনে ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট-এর জয়ের পর নতুন মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনকে ঘিরে কংগ্রেসের অন্দরমহলে জোরদার রাজনৈতিক টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। বিপুল জয়ের পর সরকার গঠনের প্রস্তুতি চললেও মুখ্যমন্ত্রী পদে কাকে বেছে নেওয়া হবে, তা নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারেনি কংগ্রেস হাইকম্যান্ড। ফলে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা ক্রমশ তীব্র হচ্ছে।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী পদের দৌড়ে প্রধানত তিন নেতার নাম উঠে এসেছে কেসি বেণুগোপাল, ভিডি সতীশন এবং রমেশ চেন্নিথলা। এদের মধ্যে সাংগঠনিক দিক থেকে কেসি বেণুগোপাল অনেকটাই এগিয়ে রয়েছেন। বিধায়কদের বড় অংশ তাঁর পক্ষে রয়েছে বলে খবর। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছেও তাঁর গ্রহণযোগ্যতা বেশি। বিশেষ করে রাহুল গান্ধীর ঘনিষ্ঠ হওয়ায় তাঁর সম্ভাবনা আরও জোরদার হয়েছে।
অন্যদিকে, কেরলে জনভিত্তি এবং জোটসঙ্গীদের মধ্যে সমর্থনের বিচারে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছেন ভিডি সতীশন। ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগ-এর প্রকাশ্য সমর্থন তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানকে মজবুত করেছে। তবে এই সমর্থনই কংগ্রেসের কাছে এক নতুন সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দলের একাংশের আশঙ্কা, আইইউএমএলের সমর্থনের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিলে বিজেপি এটিকে সংখ্যালঘু তোষণ ইস্যু হিসেবে ব্যবহার করতে পারে, যা ভবিষ্যতে রাজনৈতিকভাবে কংগ্রেসের জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে। রমেশ চেন্নিথলাও দৌড়ে থাকলেও বর্তমানে তিনি তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে কংগ্রেসের অভিজ্ঞ ও প্রবীণ নেতৃত্ব হিসেবে তাঁর নামও আলোচনায় রয়েছে।
দিল্লিতে কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকরা পরিস্থিতির উপর নিবিড় নজর রাখছেন। দলীয় শীর্ষ নেতৃত্ব চাইছে এমন একজনকে বেছে নিতে, যিনি সরকার পরিচালনায় দক্ষ হবেন, একইসঙ্গে দলীয় ঐক্য বজায় রেখে জোট রাজনীতিতেও ভারসাম্য রক্ষা করতে পারবেন।
এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেসের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হল সংগঠনের শক্তি, জনমত এবং জোটের সমীকরণের মধ্যে সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখা। কারণ মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন শুধু সরকারের নেতৃত্ব নির্ধারণ করবে না, আগামী দিনে কেরলের রাজনৈতিক মানচিত্র, এবং কেন্দ্রেও কংগ্রেসের অবস্থানও অনেকটাই নির্ধারণ করবে। অন্যদিকে ভুল সিদ্ধান্ত নিলে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব বাড়তে পারে, যা নতুন সরকারের স্থিতিশীলতার উপরও প্রভাব ফেলতে পারে। তাই কংগ্রেস হাইকম্যান্ড অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে।