ওঙ্কার ডেস্ক: ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর বর্ষপূর্তির আগে পাকিস্তানের অভ্যন্তর থেকেই উঠে এল বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি, যা ফের আন্তর্জাতিক মহলে পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদে প্রত্যক্ষ মদতের অভিযোগকে জোরালো করেছে। পাকিস্তানের রাজনৈতিক নেতা শাহির সিয়ালভি এক প্রকাশ্য সভায় মন্তব্য ইসলামাবাদের সন্ত্রাসবাদ নিয়ে দীর্ঘদিনের অবস্থানকে বড়সড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। লস্কর-ই-তইবার এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি জানান, ভারতের সামরিক অভিযানের সময় হাফিজ সইদ ও মাসুদ আজহারের মতো কুখ্যাত জঙ্গি নেতাদের রক্ষার জন্যই পাকিস্তানি সেনাবাহিনী সরাসরি যুদ্ধে নেমেছিল।
সিয়ালভির বক্তব্য অনুযায়ী, ভারতের অভিযানে পাকিস্তানের মুরিদকে ও বাহাওয়ালপুরে অবস্থিত জঙ্গি ঘাঁটিগুলিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। বহু জঙ্গির মৃত্যু হয় এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি ধ্বংস হয়ে যায়। তিনি স্বীকার করে নেন, পাকিস্তানের সামরিক প্রতিক্রিয়া দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার চেয়ে বেশি ছিল আন্তর্জাতিকভাবে চিহ্নিত জঙ্গি সংগঠনগুলির নেতৃত্বকে সুরক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যে। এই মন্তব্য সামনে আসতেই পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় ২৬ জন নিরস্ত্র সাধারণ নাগরিক নিহত হন। তদন্তে উঠে আসে, লস্কর-ই-তইবার ছায়া সংগঠন ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ এই হামলার নেপথ্যে ছিল। এর জবাবে ভারত ৭ মে ‘অপারেশন সিঁদুর’ শুরু করে, যার আওতায় পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরের একাধিক জঙ্গি প্রশিক্ষণ শিবির, ঘাঁটি ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে ব্যাপক সামরিক অভিযান চালানো হয়। ধুলিস্যাৎ করে দেওয়া হয় মোট নয়টি জঙ্গীঘাঁটী। ভারতীয় সেনার দাবি, এই অভিযানে শতাধিক জঙ্গি নিহত হয় এবং সন্ত্রাসবাদী নেটওয়ার্কের পরিকাঠামোতে বড় ধাক্কা লাগে।
ভারতের এই কৌশলগত পদক্ষেপের পর পাকিস্তান পালটা প্রতিক্রিয়া দেখালেও, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সিয়ালভির বক্তব্যে কার্যত প্রমাণিত হয়েছে যে পাকিস্তানের সামরিক ও রাজনৈতিক কাঠামোর একটি অংশ জঙ্গি সংগঠনগুলির সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত। এতদিন ধরে পাকিস্তান বিশ্বমঞ্চে সন্ত্রাসবাদে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করলেও, এই ধরনের প্রকাশ্য মন্তব্য সেই অবস্থানকে দুর্বল করে দিয়েছে।