ওঙ্কার ডেস্ক: পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ক্রমশই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে পরিস্থিতি। নির্বাচন-পরবর্তী অস্থিরতার আবহে এবার পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণের দাবি করেছে জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি (JAAC)। সংগঠনের দাবি, নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়ন এবং সাধারণ মানুষের উপর গুলিচালনার প্রতিবাদে এই পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যদিও পাকিস্তানের প্রশাসন এই ঘটনাকে সন্ত্রাসমূলক কার্যকলাপ বলে দাবি করেছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করেছে।
জানা গিয়েছে, পাক অধিকৃত কাশ্মীরের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। ভোটগ্রহণের আগে ও পরে বিরোধী গোষ্ঠী এবং সাধারণ মানুষের একাংশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে সামিল হন। তাদের অভিযোগ ছিল, নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে পরিচালিত হয়নি এবং বিরোধী মত দমনে প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষে একাধিক মানুষের মৃত্যু এবং বহু মানুষ আহত হওয়ার খবর সামনে আসে। এই ঘটনার পরই জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে পাল্টা হামলার দাবি করে। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনী সাধারণ মানুষের উপর যে বলপ্রয়োগ করেছে, তারই জবাব হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তাদের অভিযোগ, আন্দোলনকারীদের উপর নির্বিচারে গুলি চালানো হয়েছে, বহু নিরীহ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং অনেককে আটক করা হয়েছে। সেই কারণেই তারা নিজেদের আন্দোলনকে আরও তীব্র করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
পাকিস্তানের সেনাবাহিনী এবং প্রশাসনের দাবি, আইনশৃঙ্খলা নষ্ট করার উদ্দেশ্যেই কিছু সশস্ত্র গোষ্ঠী নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এই ঘটনায় কয়েকজন সেনাকর্মী আহত হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে। হামলার পর গোটা এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দফতর, সেনা শিবির এবং সংবেদনশীল এলাকায় অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি অভিযানও শুরু হয়েছে।