ওঙ্কার ডেস্ক : রাশিয়া থেকে তেল আমদানিকে কেন্দ্র করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন করে ৫০ শতাংশ শুল্কবৃদ্ধির ঘোষণা হঠাৎই ধাক্কা দিল ওয়াশিংটন-নয়াদিল্লি সম্পর্কের সাম্প্রতিক উষ্ণতায়। ৮ আগস্ট, শুক্রবার এই পরিস্থিতি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
গত বুধবার ট্রাম্প ঘোষণা করেন, রাশিয়া থেকে তেল কেনার জন্য ভারত-সহ কয়েকটি দেশের উপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শাস্তিমূলক শুল্ক বসানো হবে। এর আগে তিনি একই কারণে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিলেন। নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে ২৭ অগস্ট থেকে। প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, বর্তমান অচলাবস্থা না মিটলে ভারতের সঙ্গে আর কোনও বাণিজ্য আলোচনা হবে না। তবে তাঁর বক্তব্য থেকে পরিষ্কার হয়নি, তিনি কি ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ও রাশিয়ান তেল আমদানি বন্ধ করাকে শর্ত করছেন, নাকি আগের শুল্কবৃদ্ধি নিয়ে অমিল মেটানোই তাঁর উদ্দেশ্য।
বিশ্লেষকদের মতে, এই শুল্কবৃদ্ধির মূল লক্ষ্য রাশিয়ার উপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়িয়ে তাকে যুদ্ধবিরতিতে বাধ্য করা। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম রাশিয়ান তেল ক্রেতা ভারত ছাড়াও চিন ও তুরস্ক এই তালিকায় রয়েছে। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, শুক্রবারের মধ্যে ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ না হলে সব গ্রাহক দেশের উপর সেকেন্ডারি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। তাঁর এই ধারাবাহিক চাপের কারণে নয়াদিল্লির একাধিক শীর্ষ কূটনীতিক মনে করছেন, এখন সাউথ ব্লক প্রায় প্রতিদিনই আতঙ্কে থাকে নতুন কী শুল্ক বা নিষেধাজ্ঞা আসতে চলেছে ! এখন পর্যন্ত আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে পাঁচ দফা বৈঠক হয়েছে ভারতের। এ মাসের শেষ দিকে ষষ্ঠ রাউন্ডের বৈঠক হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু তার আগেই ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত কার্যত সেই প্রক্রিয়ায় ধাক্কা দিল।
ট্রাম্পের ঘোষণার পর ভারতের বিদেশ মন্ত্রক তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। তাদের বক্তব্য, এই সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক, অন্যায্য ও সম্পূর্ণ অসঙ্গত। নয়াদিল্লি স্পষ্ট করেছে, ভারতের তেল আমদানির সিদ্ধান্ত বাজার পরিস্থিতি ও দেশের ১৪০ কোটির বেশি মানুষের জ্বালানি নিরাপত্তার উপর নির্ভর করে নেওয়া হয়, তাই কোনও বাহ্যিক চাপের কাছে নতি স্বীকার করা হবে না।
