ওঙ্কার ডেস্ক: রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাম্প্রতিক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। মস্কোতে একটি বিনিয়োগ সম্মেলনের পর তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, রাশিয়া কোনও যুদ্ধ আরম্ভ করতে চায় না, কিন্তু যদি ইউরোপ যুদ্ধের পথ বেছে নেয়, তাহলে রাশিয়া এই মুহূর্তেই সেই সংঘাতে জড়াতে প্রস্তুত। তাঁর এই ঘোষণা শুধু ইউরোপ নয়, গোটা বিশ্ব রাজনীতিতে উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে।
পুতিনের দাবি, ইউরোপীয় দেশগুলো শান্তি আলোচনার জন্য প্রকৃত কোনও উদ্যোগ দেখাচ্ছে না। বরং তারা এমন সব শর্ত দিচ্ছে, যেগুলো রাশিয়ার কাছে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। তাঁর কথায়, ইউরোপের রাজনৈতিক নেতৃত্ব শান্তির পথে হাঁটার বদলে যুদ্ধের দিকেই এগোচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, পশ্চিমা দেশগুলোর কোনও নরম অবস্থান নেই, বরং তারা এমনভাবে পরিস্থিতি তৈরি করছে, যাতে সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত হয়। ইউক্রেনকে অব্যাহত সামরিক সহায়তা এবং কূটনৈতিক চাপ দুই মিলিয়ে ইউরোপ যেন যুদ্ধকে ত্বরান্বিত করছে বলেই তাঁর অভিমত।
এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের রাশিয়া সফর বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। মার্কিন ব্যবসায়ী এবং প্রেসিডেন্টের দূত হিসেবে স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার এই সময় মস্কোয় উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের সফরের উদ্দেশ্য ছিল রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধের শান্তি সূত্র খুঁজে বের করা। কিন্তু পুতিনের এই কঠোর ভাষা সেই আলোচনার পরিবেশকে আরও জটিল করেছে। প্রেসিডেন্টের বক্তব্যে পরিষ্কার বোঝা যায়, রাশিয়া এখন কূটনৈতিক চাপের বদলে নিজেদের সামরিক সক্ষমতার কথাই সামনে তুলে ধরতে চাইছে। তিনি এমনও সতর্ক করেছেন যে, যদি ইউরোপ যুদ্ধ শুরু করে, তাহলে পরিস্থিতি এমনভাবে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে যে ভবিষ্যতে শান্তি আলোচনার জন্য কোনও পক্ষই আর অবশিষ্ট নাও থাকতে পারে।
রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধের পটভূমিতে এই মন্তব্য এক নতুন মাত্রা যুক্ত করেছে। যুদ্ধ শুরুর প্রায় তিন বছর পরও সংঘাত কমার বদলে আরও জটিল হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ন্যাটো এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে রাশিয়ার অসন্তোষ আগেই স্পষ্ট ছিল। এবার সেই অসন্তোষ হুঁশিয়ারির সুরে প্রকাশ পেল। পুতিনের মতে, রাশিয়া শান্তি চায়, কিন্তু সে শান্তি এমন শর্তে নয় যা তাদের সার্বভৌমত্ব বা কৌশলগত নিরাপত্তাকে ক্ষুণ্ণ করবে।
পশ্চিমা ও ইউরোপীয় কূটনৈতিক মহলে এই মন্তব্যের পর উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পুতিনের বক্তব্য শুধু রাজনৈতিক বার্তা নয়, সামরিক প্রস্তুতিরও ইঙ্গিত বহন করে। রাশিয়ার সেনাবাহিনী গত কয়েক মাসে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে অগ্রগতি অর্জন করেছে, এবং সেই সাফল্যকে পুঁজি করেই হয়তো রাশিয়া আরও শক্ত অবস্থান নিতে চাইছে।
এই পরিস্থিতিতে ইউরোপের প্রতিক্রিয়াই এখন দেখার বিষয়। ইউরোপের বহু দেশ ইতিমধ্যেই প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়িয়েছে, ন্যাটোও সামরিক তৎপরতা জোরদার করছে। অন্যদিকে রাশিয়া দাবি করছে, পশ্চিমা উস্কানিতেই পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে। দুই পক্ষের এই পরস্পরবিরোধী অবস্থান বিশ্ব রাজনীতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে।
