ওঙ্কার ডেস্ক: বিগত তিন বছর ধরে চলতে থাকা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে তৎপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সেই কারনে একাধিকবার দুই দেশের সঙ্গে বার্তালাপ করে শান্তি সমঝোতার চেষ্টা করে গেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। আলাস্কার বৈঠকের পর হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপোষ্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদামির পুতিনের উচ্চ পর্যায়ে বৈঠকের কথা ছিল, যা আপাতত অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। আর এতেই দুই দেশের মধ্যে শান্তি সমঝোতা আবার বড় প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়ে।
দুই দেশের তরফ থেকে এখনও পর্যন্ত কোন সরকারি বিবৃতি দেওয়া হয়নি। কি কারনে বহু প্রতীক্ষিত এই বৈঠক বাতিল করা হল সে নিয়ে মুখ খোলেনি দুই দেশের মন্ত্রকদল। হোয়াইট হাউসের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, এ বিষয় যথেষ্ট সংবেদনশীল। রাষ্ট্রনেতাদের বেশি তাড়াহুড়ো করার দরকার নেই। তবে পশ্চিমের কিছু সংবাদ মাধ্যমের দাবি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভালদিমির জেলেনস্কির হাতে ‘টোমাহক মিসাইল’ তুলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আর এতেই চটেছেন ট্রাম্পের ঘনিষ্ট বন্ধু তথা রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ এর ফেব্রুয়ারি মাসে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে জড়িয়ে পরে রাশিয়া এবং ইউক্রেন। বহু দেশের মধ্যস্থতায় শান্তি ফেরানো সম্ভব হয়নি দুই দেশের মধ্যে। অন্যদিকে, দ্বিতীয়বার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট পদের নির্বাচনের প্রচারের সময় ট্রাম্প দাবি করেছিলেন তিনি রাশিয়া ইউক্রেনের যুদ্ধ খুব শীঘ্রই থামাবেন। এই জন্য একাধিকবার দুই দেশের প্রধানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন তিনি। এমনকি রাশিয়া থেকে তেল কেনার অপরাধের ভারতের উপর ৫০% শুল্ক আরোপ করেছিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাতেও এই যুদ্ধের কোনো সুরাহা হয়নি।
অন্যদিকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদামির পুতিনের উপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বিভিন্ন দেশ। ইউক্রেনের উপর হামলা চালানোর কারনে ২০২২ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে পুতিনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। আন্তর্জাতিক আদালতের নিয়ম মাফিক মামলাকারি দেশগুলিতে যদি পুতিন সফর করেন তাহলে তাঁকে গ্রেফতার করা হবে। উল্লেখ্য হাঙ্গেরিতে ট্রাম্প-পুতিন বৈঠকে অংশগ্রহন করতে গেলে রাশিয়া থেকে হাঙ্গেরি যেতে গেলে পোল্যান্ডের আকাশপথ ব্যবহার করতে হবে। সেদেশের বিদেশমন্ত্রী রাডোস্লা সিকোরস্কি পুতিনকে হুমকি দিয়ে বলেছেন, “পোল্যান্ডের আকাশসীমা ব্যবহার করলে রাশিয়া প্রেসিডেন্টকে গ্রেফতার করবে ওয়ারসো”। প্রসঙ্গত, পোল্যান্ডও ২০২২ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে পুতিনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছিল।
