ওঙ্কার ডেস্ক: বিগত চার বছর ধরে যুদ্ধে লিপ্ত রয়েছে রাশিয়া ইউক্রেন। বহু দেশ মধ্যস্থতা করার চেষ্টা করলেও আশাপ্রদ ফল পাওয় যায়নি। একবার ফের রাষ্ট্রসংঘ এই দুই দেশে নিশর্তে এবং অতিসত্তর যুদ্ধ থামানোর জন্য মোট ১৯৩টি দেশকে নিয়ে ভোট পর্ব করায়। যেখানে ১০৭টি দেশ যুদ্ধ থামানোর পক্ষে ভোট দেয় এবং ১২ টি দেশ ভোট দেই এর বিপক্ষে। ভারত সহ অনান্য ব্রিকস্ অন্তরভুক্ত দেশগুলি ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকে। মোট ৫১টি দেশ কোনো পক্ষের হয়ে ভোট প্রদান করেনি। পাশাপাশি যুদ্ধ থামানোর পক্ষে ভোট দেওয়া ১০৭টি দেশকে ধন্যবাদ দিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভালোদিমির জেলেনস্কি।
রাষ্ট্রসংঘের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমারেখার ভিত্তিতে ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতাকে সম্মান জানাতে হবে। পাশাপাশি যুদ্ধবন্দিদের বিনিময় এবং জোরপূর্বক স্থানান্তরিত সাধারণ নাগরিকদের, বিশেষ করে শিশুদের, নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের বিষয়েও জোর দেওয়া হয়েছে। যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট মানবিক বিপর্যয়, বেসামরিক অবকাঠামোর উপর ধারাবাহিক হামলা এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
২০২২ সালে রাশিয়া ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করার পর থেকেই আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে তীব্র মেরুকরণ তৈরি হয়েছে। পশ্চিমি দেশগুলি ধারাবাহিকভাবে ইউক্রেনের পাশে দাঁড়ালেও, বেশ কিছু দেশ নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখেছে।
ভারত কেন ভোটদানে বিরত রইল, তা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে নানা ব্যাখ্যা উঠে এসেছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, ভারতের দীর্ঘদিনের পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি ‘কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন’। অর্থাৎ, আন্তর্জাতিক ইস্যুতে কোনও নির্দিষ্ট শক্তিগোষ্ঠীর সঙ্গে সরাসরি অবস্থান না নিয়ে সংলাপ ও কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের উপর জোর দেওয়াই ভারতের নীতি। আগেও একাধিকবার রাষ্ট্রসংঘে রাশিয়া-ইউক্রেন ইস্যুতে ভোটাভুটির সময় ভারত একই অবস্থান নিয়েছিল। এমনকি বিশ্ব রাজনীতিতে সরাসরি রাশিয়া বা ইউক্রেনের পক্ষ নিয়ে কোন মন্তব্য করে নি ভারত।
