ওঙ্কার ডেস্ক: ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার আবহে শুরু হওয়া শান্তি আলোচনা নতুন মোড় নিতে চলেছে। প্রথম দফার বৈঠকের পর দ্বিতীয় দফা নিয়ে যখন কূটনৈতিক মহলে আশাবাদ তৈরি হচ্ছিল, ঠিক সেই সময়ই বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে আলোচনার নেতৃত্বের ক্ষেত্রে। প্রথম দফার আলোচনায় যাঁরা মুখ্য ভূমিকা নিয়েছিলেন, তাঁরা দ্বিতীয় দফায় অনুপস্থিত থাকছেন বলে জানা গিয়েছে, যা গোটা প্রক্রিয়াকে আরও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে।
ইসলামাবাদে প্রথম দফায় শান্তি আলচনায় আমেরিকাকে নেতৃত্ব দিয়েছিল ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স। অন্যদিকে ইরানের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন ইরান পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাঘেরি। প্রথম দফায় শান্তি আলচনায় তাঁদের উপস্থিতি উভয় পক্ষই আপাতত সংঘাত কমিয়ে কূটনৈতিক সমাধানের পথে আগ্রহী সেই বার্তাই দিয়েছিলেন। কিন্তু দ্বিতীয় দফার ক্ষেত্রে সেই চিত্র বদলাচ্ছে। দুই পক্ষেরই গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের সরে দাঁড়ানো বা অনুপস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে, শান্তি আলোচনার ভিত এখনও শক্ত ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে নেই।
জানা যাচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে শান্তি বৈঠকের প্রতিনিধিত্ব করবেন ট্রাম্পের জামাতা জেডি কুশনার। অতীতে মধ্যপ্রাচ্য সংক্রান্ত বিষয়ে এবং ট্রাম্প শিবিরের সঙ্গে ঘনিষ্টতায় কুশনারকে এই সুযোগ এনে দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। অপরদিকে দ্বিতীয় দফা আলোচনায় মহম্মদ বাঘেরির পরিবর্তে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি প্রতিনিধিত্ব করবেন বলে সূত্রের খবর। এই রদবদলকে অনেকেই কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন, আবার অনেকে মনে করছেন, আলোচনার গতি ও গুরুত্ব কিছুটা হলেও কমে যেতে পারে।
এই আলোচনায় পাকিস্তানকে সম্ভাব্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ইসলামাবাদে বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটি দুই পক্ষের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রাখার চেষ্টা করছে এবং একটি নিরপেক্ষ মঞ্চ হিসেবে নিজেকে তুলে ধরতে চাইছে। তবে এই মধ্যস্থতার সাফল্য কতটা হবে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।
মূলত তিনটি বড় ইস্যু ঘিরেই এই আলোচনা এগোচ্ছে। ইরানের পরমাণু কর্মসূচি, হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ, এবং আঞ্চলিক সংঘাতের প্রভাব। এই প্রতিটি ক্ষেত্রেই মতভেদ গভীর। যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান তার পরমাণু কার্যক্রমে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করুক, অন্যদিকে তেহরান নিজের সার্বভৌম অধিকার বজায় রাখার প্রশ্নে অনড়। একইসঙ্গে হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে সামরিক উপস্থিতি ও বাণিজ্যিক চলাচল নিয়েও উত্তেজনা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আলোচনার নেতৃত্বে পরিবর্তন এবং প্রতিনিধিদের অনুপস্থিতি এই বার্তা দেয় যে, দুই দেশের মধ্যে আস্থার অভাব এখনও প্রকট। যদিও আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা উভয় পক্ষই দেখাচ্ছে, তবুও বাস্তবিক সমাধানে পৌঁছনো সহজ হবে না। বরং প্রতিটি ধাপেই নতুন করে জটিলতা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দ্বিতীয় দফার বৈঠক কতটা ফলপ্রসূ হবে, তা এখনই স্পষ্ট নয়। তবে একথা পরিষ্কার, কূটনৈতিক দরকষাকষির এই প্রক্রিয়া এখনও প্রাথমিক পর্যায়েই রয়েছে এবং যে কোনও মুহূর্তে এর গতিপথ বদলে যেতে পারে।