ওঙ্কার ডেস্ক: বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ওঠা গুরুতর অভিযোগ এবং তা ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক দুইটি আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে তাঁর বিরুদ্ধে ‘মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ’, গণহত্যা, উত্তেজনামূলক ভাষণ দেওয়া, এবং রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করে প্রতিবাদ দমনের মতো অভিযোগে বিচার চলছে। মূলত ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্ট মাসে ছাত্রবিক্ষোভ দমনে তাঁর প্রত্যক্ষ ভূমিকার অভিযোগই তাঁর মৃত্যুদন্ডের আদেশের কারণ হতে পারে।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশকে গুলি চালানোর নির্দেশ নেন হাসিনা। রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যার ঘটনাসহ ঢাকার চানখারপুলে ছয় জনের মৃত্যু, আশুলিয়ায় ছয় জনকে পুড়িয়ে মারা এসবই নাকি তাঁর অনুমতিতেই হয়েছে বলে দাবি করেছে তদন্তকারী সংস্থা। অভিযোগে আরও বলা হয়, হেলিকপ্টার, ড্রোন এবং প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে বিক্ষোভ দমন করা হয়েছিল সরকারের নির্দেশে। শুধুমাত্র শেখ হাসিনা নন, এ মামলায় তাঁর সঙ্গে অভিযুক্ত হয়েছেন প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং প্রাক্তন আইজিপি আবদুল্লাহ আল-মামুন।
বাংলাদেশে যুব সমাজের গণ-অভ্যুত্থানের পর অবশ্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং আসাদুজ্জামান দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেলো আল মামুন দেখেথীক রাজসাক্ষী হওয়ার সিধান্ত নেন। এ অবস্থায় শেখ হাসিনা দেশে না থাকায় রায় ঘোষিত হলে আপিলের সুযোগ নাও থাকতে পারে বলে জানিয়েছে ট্রাইব্যুনাল কমিটি। মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে আন্তর্জাতিক মহলেও এই বিচার নিয়ে আলোচনার ঝড় উঠেছে।
অন্যদিকে, এক অনলাইন সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা তাঁর বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছেন। তাঁর দাবি, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই এসব মামলা করছে। তিনি বলেন, নিজের হাতে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দেওয়ার পরও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে আনা হচ্ছে এটি রাজনৈতিক অপব্যাখ্যা ছাড়া কিছুই নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, কোনো প্রতিবাদকারীকে হত্যার নির্দেশ তিনি দেননি। আদালতকে অবজ্ঞা করার অভিযোগে সম্প্রতি যে আলাদা মামলায় তাঁকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়েও হাসিনার বক্তব্য বিচারব্যবস্থাকে প্রভাবিত করতে তাঁর উদ্দেশ্য ছিল না।
