ওঙ্কার ডেস্ক: বাংলাদেশে এবার নিষিদ্ধ হয়ে গেল এক সময়ের শাসকদল আওয়ামী লীগ। শনিবার মহম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শেখ হাসিনার এই দলকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নেয়। শনিবার অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের এক বিশেষ বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বলা হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও দলটির নেতাদের বিচার সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগের যাবতীয় কাজকর্ম নিষিদ্ধ থাকবে।
বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস ওই বিশেষ বৈঠকের সভাপতিত্ব করেন। রাত সাড়ে আটটা থেকে পৌনে ১১টা পর্যন্ত বৈঠক হয়। এর পর সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে আইন বিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, ‘উপদেষ্টা পরিষদের সভায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও দলটির নেতাদের বিচার কাজ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত দলটির কাজ কর্মের উপর নিষেধাজ্ঞা থাকবে। পাশাপাশি দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা, জুলাই আন্দোলনের নেতা-কর্মীদের নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বাদী ও সাক্ষীদের সুরক্ষার জন্য সন্ত্রাস বিরোধী আইনের আওতায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে খুব শীঘ্রই নির্দেশিকা জারি করা হবে।
উল্লেখ্য, গত বছর ৫ আগস্ট ছাত্র বিক্ষোভের মুখে পড়ে দেশ ছাড়েন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বর্তমানে ভারতে রয়েছেন তিনি। হাসিনা বাংলাদেশ ছাড়ার পর সেদেশের ক্ষমতা দখল করে মহম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। আগস্ট মাস থেকে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তরফে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়ে আসছে। সম্প্রতি টানা তিন দিন ধরে সেই দাবিতে কর্মসূচি পালন করছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ছাত্র সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। এই আবহে শনিবার রাতে জরুরি বৈঠকে বসে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ।
