ওঙ্কার ডেস্ক : বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী হাসিনাকে ফাঁসির সাজাই দিল বাংলাদেশের ট্রাইবুনাল। হাসিনার বিরুদ্ধে সোমবার রায় ঘোষণার আগে ৪৫৩ পৃষ্ঠার রায় রায় পড়ে শোনান বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদার, বিচারপতি মহম্মদ শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারক মহম্মদ মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর। কোন অপরাধে কী শাস্তি, আইনের বিভিন্ন ধারা পড়ে শোনানো হয়। তার সরাসরি সম্প্রচারেরও ব্যবস্থা করা হয় ঢাকার বিভিন্ন জায়গায়। এই সম্প্রচার ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য জায়ান্ট স্ক্রিন বসানো হয়। রবিবার থেকেই বিক্ষোভ ঠেকাতে ঢাকা জুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। রবিবার রাত থেকেই বিক্ষিপ্ত ভাবে অশান্তি হচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। গাড়ি, অ্যাম্বুল্যান্স, বাসে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। হয়েছে একাধিক ককটেল বিস্ফোরণ। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঢাকার পুলিশ কমিশনার দুষ্কৃতীদের দেখামাত্র গুলির নির্দেশ দিয়েছেন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রায় শোনাতে গিয়ে আদালত বলেছে যে গত বছর জুলাই বিদ্রোহের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য তার সর্বোচ্চ শাস্তি প্রাপ্য। রায় ঘোষণার আগে, হাসিনা বলেছেন যে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলি মিথ্যা এবং তিনি এই ধরনের রায়ের পরোয়া করেন না।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায় ঘোষণার আগে তার সমর্থকদের উদ্দেশ্যে একটি অডিও বার্তায় আওয়ামী লীগ নেত্রী বলেছেন, “নোবেল বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তার দলকে শেষ করে দিতে চায়। এটা এত সহজ নয়, আওয়ামী লীগ তৃণমূল থেকে উঠে এসেছে, ক্ষমতা দখলকারীর পকেট থেকে নয়।”
হাসিনা বলেন, “বাংলাদেশে প্রতিবাদ পরিকল্পনার প্রতি তার সমর্থকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে সাড়া দিয়েছে। তারা আমাদের বিশ্বাস জুগিয়েছে। জনগণ এই দুর্নীতিবাজ, জঙ্গি এবং খুনি ইউনূস এবং তার সহযোগীদের দেখাবে কিভাবে বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়াতে পারে; জনগণ ন্যায়বিচার করবে।”
গত বছর তার সরকারের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী বিক্ষোভ হিংসাত্মক আকার নিলে দিল্লিতে চলে আসেন ভারতের ঘনিষ্ঠ হাসিনা। ভারতে আসার ঠিক আগে তিনি পদত্যাগ করেন। তার দেশত্যাগের পর ইউনূসের নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় আসে। তারপরই হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনে। মামলার শুনানিকারী আদালত হাসিনাকে ঢাকায় বিচারে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেয়, কিন্তু তিনি তা মেনেননি।
তার সমর্থকদের উদ্বিগ্ন না হওয়ার অনুরোধ জানিয়ে প্রবীণ নেত্রী বলেন, “আমি বেঁচে আছি, আমি বেঁচে থাকব, আমি আবারও মানুষের কল্যাণের জন্য কাজ করব এবং আমি বাংলাদেশের মাটিতে ন্যায়বিচার করব।” ইউনূসের বিরুদ্ধে ক্ষমতা দখলের অভিযোগ এনে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সংবিধান বলেছে যে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের জোর করে তাদের পদ থেকে অপসারণ শাস্তিযোগ্য। হাসিনা বলেন, “ইউনুস তাঁর সূক্ষ্ম চক্রান্তের মাধ্যমে ঠিক এটাই করেছেন।” তিনি বলেন, “গত বছরের বিদ্রোহের সময় তার সরকার ছাত্র বিক্ষোভকারীদের দাবি মেনে নিয়েছিল, কিন্তু নতুন নতুন দাবি আসতে থাকে। উদ্দেশ্য ছিল একটি অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করা।”
তার সরকারের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “আমি ১০ লক্ষ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছিলাম এবং তারা আমাকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছে ?” তিনি বলেন, ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার পুলিশ, আওয়ামী লীগ কর্মী, আইনজীবী, সাংবাদিক এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের হত্যাকারীদের বিচারের আওয়াতা থেকে বাদ দিয়ে ইউনুস নিজেকেই দোষী করেছেন। ভুক্তভোগীদের পরিবারের সদস্যদের জন্য ন্যায়বিচারের দরজা বন্ধ করা কেমন মানবতা ?” তাঁর সাফ কথা, “তাঁদের রায় দিতে দিন। আমার কিছু যায় আসে না। আল্লাহ আমাকে জীবন দিয়েছেন, আল্লাহ তা নিয়ে নেবেন। কিন্তু আমি আমার দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাব। আমি আমার বাবা-মা, ভাইবোনদের হারিয়েছি, অথচ তারাই আমার বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে।”
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন গণভবনে ভাঙচুর ও লুটপাটের তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, “গণভবন আমার সম্পত্তি নয়, এটি সরকারি সম্পত্তি। তারা বলছে এটি একটি বিপ্লব। গুন্ডা এবং সন্ত্রাসীরা বিপ্লব আনতে পারে না।”
আদালতের এই ধরনের রায় তাঁকে থামাতে পারবে না বলে জোর দিয়ে হাসিনা বলেন, আমি জনগণের সঙ্গে আছি। আমি আমার দলের কর্মীদের বলছি: চিন্তা করবেন না, এটি সময়ের ব্যাপার, আমি জানি আপনারা কষ্ট পাচ্ছেন, আমরা এটা ভুলে যাব না, সবকিছুর হিসাব নেওয়া হবে। আমি বিশ্বাস করি, তা ফিরিয়ে দিতে পারব।”
