ওঙ্কার ডেস্ক: ফের সপ্তাহজুড়ে একাধিক জায়গায় আত্মঘাতী বোমা হামলায় কেঁপে উঠল পাকিস্তানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বাজাউর জেলা এলাকায় একটি নিরাপত্তা চৌকিতে আত্মঘাতী বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্তত ১১ জন নিরাপত্তারক্ষী নিহত হয়েছেন। বিস্ফোরণের জেরে পার্শবর্তী এক বসতি এলাকায় এক শিশুরও মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় আশপাশের এলাকা রীতিমতো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। নিহতদের মধ্যে এক শিশুও রয়েছে বলে সেনা সূত্রে জানা গিয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে অশান্ত সীমান্তবর্তী অঞ্চল খাইবার পাখতুনখোয়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই জঙ্গি কার্যকলাপের জন্য স্পর্শকাতর বলে পরিচিত। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিস্ফোরক বোঝাই একটি গাড়ি দ্রুতগতিতে নিরাপত্তা চৌকির দিকে ধেয়ে আসে এবং মুহূর্তের মধ্যে প্রবল বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের অভিঘাতে চৌকির একাংশ ভেঙে পড়ে এবং আশপাশের বাড়িঘরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
প্রাথমিক ধাক্কা সামলে পাল্টা জবাব দেয় নিরাপত্তাবাহিনী। সেনাবাহিনীর দাবি, সংঘর্ষে অন্তত ১২ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে পাকিস্তান নিরাপত্তা বাহিনী। আহতদের দ্রুত নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বিস্ফোরণের সময় আশেপাশে থাকা বহু সাধারণ মানুষও আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
এই হামলার দায় স্বীকার করেছে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন ‘তেহরিক-ই-তালিবান’ সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তানের বিভিন্ন নিরাপত্তা স্থাপনা ও বাহিনীর উপর হামলা চালিয়ে আসছে। বিশেষ করে আফগান সীমান্ত সংলগ্ন অঞ্চলগুলিতে তাদের সক্রিয়তা বেশি। ইসলামাবাদ বরাবরই অভিযোগ করে এসেছে যে, সীমান্তের ওপারে আফগানিস্তানের ভূখণ্ড ব্যবহার করে জঙ্গিরা হামলার পরিকল্পনা করছে, যদিও কাবুল সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
সাম্প্রতিক মাসগুলিতে পাকিস্তানে জঙ্গি হামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমান্ত পরিস্থিতি ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগ নিচ্ছে জঙ্গি গোষ্ঠীগুলি। এই হামলা সেই উদ্বেগ আরও বাড়াল এই হামলার পর। নিহত নিরাপত্তারক্ষীদের প্রতি শোকজ্ঞাপন করেছে পাক প্রশাসন এবং জঙ্গিদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার পর গোটা এলাকায় উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। অতিরিক্ত নিরাপত্তাবাহিনী মোতায়েন করে তল্লাশি অভিযান শুরু হয়েছে। সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক ছড়ালেও প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলেই দাবি করছে।
