ওঙ্কার ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল আকার নিচ্ছে। ইজরায়েল-ইরান সংঘাত এবং তাতে আমেরিকার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভূমিকা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। এই আবহেই নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে পাকিস্তান। জানা গিয়েছে, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির খুব শীঘ্রই তেহরান সফরে যেতে পারেন। যুদ্ধ পরিস্থিতি, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং সম্ভাব্য শান্তি আলোচনাকে ঘিরেই এই সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
কূটনৈতিক সূত্রের দাবি, ইরান ও আমেরিকার মধ্যে বর্তমানে যে উত্তেজনা চলছে, সেখানে পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় নিজেদের তুলে ধরার চেষ্টা করছে। ইসলামাবাদ চাইছে, পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি আরও অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠার আগেই আলোচনার মাধ্যমে কোনও সমাধানের পথ বের হোক। সেই কারণেই পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের তেহরান সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
বর্তমানে ইজরায়েল ও ইরানের মধ্যে সংঘর্ষ থামার কোনও লক্ষণ নেই। গাজা উপত্যকা, লেবানন সীমান্ত এবং পারস্য উপসাগর ঘিরে উত্তেজনা অব্যাহত। ইজরায়েলের একাধিক সামরিক অভিযানের পর ইরানও কড়া পাল্টা অবস্থান নিয়েছে। পাশাপাশি আমেরিকার সামরিক উপস্থিতি এবং যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন পরিস্থিতিকে আরও স্পর্শকাতর করে তুলেছে। আন্তর্জাতিক বাজারেও এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। অপরিশোধিত তেলের দাম ওঠানামা করছে, উদ্বেগ বাড়ছে বিশ্ব অর্থনীতিতেও।
এই অবস্থায় পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। একদিকে ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানের সীমান্ত ও কৌশলগত সম্পর্ক রয়েছে, অন্যদিকে আমেরিকা এবং সৌদি আরবের সঙ্গেও ইসলামাবাদের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। ফলে দুই পক্ষের মধ্যেই একটি ভারসাম্য বজায় রেখে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে পাকিস্তান।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জেনারেল আসিম মুনিরের সম্ভাব্য তেহরান সফর শুধুমাত্র সামরিক বা কূটনৈতিক বৈঠক নয়, বরং গোটা অঞ্চলের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা পরিস্থিতির দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও বিস্তৃত হলে তার সরাসরি প্রভাব দক্ষিণ এশিয়াতেও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাই আপাতত আন্তর্জাতিক মহলের নজর এখন তেহরান ও ইসলামাবাদের দিকেই।