
প্রাইমা হোসেন
ফিনিক্স পাখির মতো আবার ফিরে আসবেন তিনি। বাংলাদেশের ইতিহাস, সংগ্রাম, ত্যাগ ও পুনর্জন্মের নবযুগ নিয়ে। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে যে চেতনা জন্ম নিয়েছিল, তা ধারণ করে রেখেছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা। তিনি শুধু একজন রাজনৈতিক নেতা নন, বাংলাদেশের আপামর বাঙালির অবলম্বন, স্বপ্নের প্রতীক এবং অস্তিত্বের রক্ষাকবচ। জাতির সংকটে শেখ হাসিনাই ছিলেন নিশ্চিত ভরসা।
২০০১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ যখন জঙ্গিবাদ, দুর্নীতি ও অরাজকতায় ডুবছিল, তখন শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই জনগণ আবার আলোর পথ দেখেছে। ২০০৯ সাল থেকে টানা ১৫ বছর তার সরকারের আমলে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, অবকাঠামো উন্নয়ন, ডিজিটাল বাংলাদেশ, বিদ্যুৎ-সড়ক-সেতুর বিপ্লব প্রত্যক্ষ করেছে। পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, কর্ণফুলী টানেল আজ তার দূরদর্শী নেতৃত্বের প্রমাণ।.আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা শেখ হাসিনার কূটনৈতিক দক্ষতায় বাংলাদেশ আজ বিশ্ব দরবারে উন্নয়নের রোল মডেল।
রোহিঙ্গা সংকটে মানবিকতার পরিচয় দিয়ে তিনি বিশ্বনেতাদের প্রশংসা কুড়িয়েছেন। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর পক্ষে তার কণ্ঠস্বর আজ আন্তর্জাতিক ফোরামে সবচেয়ে শক্তিশালী। নারীর ক্ষমতায়ন ও সমাজের অগ্রগতি একজন নারী নেত্রী হিসেবে শেখ হাসিনা নারীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে যুগান্তকারী ভূমিকা রেখেছেন। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান—প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ বেড়েছে তার সময়েই।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় নারী-পুরুষের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠায় তিনি অগ্রদূত। ফিনিক্স পাখির মতো পুনর্জাগরণ ইতিহাস সাক্ষী, বাঙালি জাতি বারবার আঘাত পেয়েছে, কিন্তু মাথা নোয়ায়নি। শেখ হাসিনাও বারবার ষড়যন্ত্র, হত্যাচেষ্টা, মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন। কিন্তু প্রতিবারই তিনি জনগণের ভালোবাসায় বেঁচে উঠেছেন। ফিনিক্স পাখির মতো ছাই থেকে নতুন শক্তিতে জেগে উঠেছেন।
আজও দেশের কোটি মানুষ বিশ্বাস করে—শেখ হাসিনা ফিরবেন, কারণ তিনি ফিরলে ফিরবে স্থিতিশীলতা, উন্নয়ন ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। বাঙালি জাতির এই সংকটময় সময়ে প্রয়োজন অভিজ্ঞ, সাহসী ও পরীক্ষিত নেতৃত্ব। সেই নেতৃত্বের নাম শেখ হাসিনা। তার ফিরে আসা মানে শুধু একজন ব্যক্তির প্রত্যাবর্তন নয়, বাঙালির হারানো আত্মবিশ্বাস ও গর্বের পুনরুদ্ধার।
লেখিকা আমেরিকায় কর্মরতা বিশিষ্ট সমাজ সেবিকা