ওঙ্কার ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় চলমান যুদ্ধ ও ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগের খবর সামনে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্র নাকি ইরানের কাছে একটি বিস্তারিত পরিকল্পনা পাঠিয়েছে, যার উদ্দেশ্য এই সংঘাতের অবসান ঘটানো এবং পরিস্থিতিকে ধীরে ধীরে শান্তির পথে নিয়ে আসা। ইজরায়েলের সংবাদ মাধ্যম দাবী করেছে ইরানকে মোট ১৫টি শর্ত দেওয়া হয়েছে এবং তা পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরানের কাছে যায়। এর প্রতিক্রিয়া স্বরুপ ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইব্রাহিন জোলফাগারি মার্কিন শর্তকে কটাক্ষ করে বলেছেন, “আমেরিকা নিজের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করতে পারে”।
সূত্রের দাবি, আমেরিকা এই প্রস্তাবে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শর্ত রেখেছে। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন সীমিত করা এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রতি সমর্থন বন্ধ করা। বিশেষ করে হামাস ও হিজবুল্লাহর মতো সংগঠনগুলির প্রতি ইরানের ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে, যা এই প্রস্তাবের একটি বড় অংশ হিসেবে উঠে এসেছে।
ট্রাম্প শিবির থেকে জানানও হয়েছে, প্রস্তাবের বিনিময়ে ইরানকে কিছু সুবিধা দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অংশগ্রহণের সুযোগ বৃদ্ধি এবং বেসামরিক পরমাণু কর্মসূচিতে সহযোগিতা এই ধরনের বিষয়গুলি আলোচনার টেবিলে রাখা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। একইসঙ্গে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে যুদ্ধবিরতির রূপরেখাও প্রস্তাব করা হয়েছে, যাতে ধাপে ধাপে উত্তেজনা কমানো সম্ভব হয়।
এই উদ্যোগের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক নৌচলাচল পুনরুদ্ধারের বিষয়টিও। বিশ্ব তেলের বড় অংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, ফলে সেখানে কোনও অস্থিরতা তৈরি হলে তার প্রভাব পড়ে আন্তর্জাতিক বাজারে। তাই এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতিতেও কিছুটা স্থিতিশীলতা ফিরতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
তবে এই প্রস্তাব ঘিরে অনিশ্চয়তা এখনও কাটেনি। ইরানের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে এই পরিকল্পনা গ্রহণ বা আলোচনার বিষয়টি স্বীকার করা হয়নি। বরং তারা একাধিকবার জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি কোনও আলোচনাই চলছে না। ফলে এই উদ্যোগ কতটা বাস্তবায়িত হবে, তা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে। অন্যদিকে, যুদ্ধক্ষেত্রে পরিস্থিতি এখনও উত্তপ্ত। বিভিন্ন জায়গায় সংঘর্ষ, ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং পাল্টা সামরিক অভিযান চলতেই রয়েছে। এই অবস্থায় কূটনৈতিক প্রস্তাব যতই সামনে আসুক, বাস্তব মাটিতে তার প্রভাব কতটা পড়বে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।