ওঙ্কার ডেস্ক: বাংলায় বিধানসভা ভোটে তৃণমূল সরকারের ভরাডুবির পর ৭ জুন কেন্দ্রে বিজেপি বিরোধী জোট ইন্ডিয়া জোটের সঙ্গে বৈঠকে গিয়েছেন মমতা ব্যানার্জি। সোমবার দুপুরে দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে বসবে বৈঠক। কিন্তু নির্বাচন পরবর্তী প্রথম বৈঠকের আগে নড়বড়ে বিরোধী শিবির। পূর্ণশক্তি প্রদর্শন তো দূর, আঞ্চলিক রাজনীতিতে বেআব্রু হয়ে পড়া শরিকি-দ্বন্দ্ব আড়াল করার চেষ্টাই বেশি প্রকট হল বৈঠকের আগে। বিরোধী জোটের অন্দরে এই শরিকি-দ্বন্দ্ব আবর্তিত হচ্ছে কংগ্রেসকে ঘিরেই। কংগ্রেসের সঙ্গে সম্প্রতি ডিএমকে-র সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। সোমবারের বৈঠক বয়কট করার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছে ডিএমকে। ৪ ঠা মের আগে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির পর সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জির বাড়িতে এসেছিলেন অখিলেস যাদব। ‘ইন্ডিয়া’র বৈঠকে যোগ দিচ্ছে না তারাও। কংগ্রেসের সঙ্গে দূরত্ব প্রসঙ্গে রবিবার ফের এক বার নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছে আপ। অরবিন্দ কেজরীবালের দলের নেত্রী প্রিয়ঙ্কা কক্করের কথায়, “অন্য দলের সঙ্গে জোট বাঁধার সময় কংগ্রেসের একমাত্র লক্ষ্য থাকে নিজেদের শক্তি বৃদ্ধি করা। দেশের স্বার্থের কথা ওরা ভাবে না।” কথাপ্রসঙ্গে ডিএমকে-র সঙ্গে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ নিয়েও কংগ্রেসকে বিঁধেছেন তিনি। কেরল ভোট নিয়ে কংগ্রেসের সঙ্গে বিরোধ প্রকট হয়েছে সিপিএমেরও। তবে সিপিএম বৈঠক একেবারে এড়িয়ে যাচ্ছে না। বৈঠকে প্রতিনিধি পাঠাচ্ছে তারা। তবে তা স্রেফ নামমাত্র প্রতিনিধিত্ব বলেই ব্যাখ্যা করেছেন অনেকে।
সেই বৈঠকে পৌঁছে গিয়েছেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিষেক আগের দিন থেকেই দিল্লিতে। এই বৈঠকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়েই উপস্থিত থাকছেন মমতা। যদিও বিধান সভা ভোটের আগে কংগ্রেসের সঙ্গে সু সম্পর্ক ছিল না। পরবর্তীকালে বামেদের সঙ্গেও মমতা জোট আহ্বান করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বামেরা তা নাকচ করে দেয়। যদিও পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোটের আগে পর্যন্ত কংগ্রেসের সঙ্গে খুব একটা সুসম্পর্ক তাঁর ছিল না। তবে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়ের পর মমতাকে রাহুল গান্ধীর ফোন বা রাহুল-অভিষেক ফোনালাপের মধ্যে দিয়ে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত মিলছিল। কালীঘাটে রবীন্দ্রজয়ন্তী পালনের অনুষ্ঠান থেকে বিজেপি বিরোধী সব রাজনৈতিক দলকে জোট বাঁধার জন্য আহ্বান জানান মমতা। কংগ্রেস ছাড়াও তিনি আহ্বান জানান বাম এবং অতিবাম দলগুলিকেও। সোমবার দিল্লির বৈঠকে মমতা-অভিষেক উভয়েরই থাকার কথা।
প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালে কেন্দ্রে বিজেপি বিরোধী ইন্ডিয়া জোট তৈরি হয়েছিল। ওই বছরের জুনে পটনায় প্রথম বৈঠক বসেছিল। বৈঠক ডেকেছিলেন জেডিইউ প্রধান নীতীশ কুমার তখন তিনি বিপক্ষ শিবিরে যোগদান করেছিল। তখন ১৫টি দল যোগ দিয়েছিল বৈঠকে। তার পরের মাসে বেঙ্গালুরু বৈঠকে আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ করে ‘ইন্ডিয়া’। দৃশ্যত দুর্বল হয়ে পড়া কংগ্রেসকে কেন্দ্র করে ঘোষিত হয় ২৬টি বিরোধী দলের জোট। তবে ওই সময়ে বিরোধী জোটের বৈঠকে ‘প্রধান মুখ’ হিসাবে রাহুল গান্ধী, সনিয়া গান্ধী, মল্লিকার্জুন খড়্গেদের পাশাপাশি থাকতেন নীতীশ কুমার, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অরবিন্দ কেজরীবাল, এমকে স্ট্যালিন, সীতারাম ইয়েচুরিরা। বর্তমানে ইন্ডিয়া জোটে কংগ্রেসের সঙ্গে ডিএম কে ও সিপিএম-র সমঝোতা না হওয়াতে তাঁরা সকলে সতন্ত্র ভাবে ভোটে লড়তে চাইছে। কিন্তু তাতে শিলমোহর দেয়নি কোনও দল। আবার কেরলের ভোটের সময়ে সিপিএম এবং বিজেপির মধ্যে ‘সমঝোতার’ তত্ত্ব উস্কে দিয়েছিল কংগ্রেস। কেরলের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বাম নেতা পিনরাই বিজয়নের সঙ্গে মোদীর গোপন আঁতাতের অভিযোগ তুলেছিল তারা। এ নিয়ে কংগ্রেসের উপর অসন্তুষ্ট সিপিএম। সম্প্রতি কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গেকে চিঠি পাঠিয়ে তা নিয়ে সিপিএম সাধারণ সম্পাদক এমএ বেবি। কংগ্রেসের অবস্থান স্পষ্ট করার জন্য বলেছেন তিনি। সোমবারের বৈঠকে তারা প্রতিনিধি পাঠাচ্ছে ঠিকই, তবে কংগ্রেসের আচরণে যে অসন্তুোষ রয়েছে— তা-ও বুঝিয়ে দিচ্ছে। অতীতে এই ধরনের বৈঠকগুলিতে সিপিএমের তরফে প্রয়াত প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক ইয়েচুরিকে দেখা যেত। তবে এ বার সিপিএম সাধারণ সম্পাদক বেবি বৈঠকে যোগ দিচ্ছেন না। কোনও গুরুত্বপূর্ণ নেতাকেও পাঠানো হচ্ছে না। রাজ্যসভার সাংসদ জন ব্রিটাসকে সোমবারের বৈঠকে পাঠাচ্ছে সিপিএম।