ওঙ্কার ডেস্ক : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘ চলা প্রশাসনিক অচলাবস্থা শেষ করার পথে এগোল সিনেট। প্রায় চল্লিশ দিনের সরকারি ‘শাটডাউন’-এর জেরে ফেডারেল দপ্তরগুলিতে কাজ বন্ধ, লক্ষাধিক কর্মচারী বেতনহীন অবস্থায় বাড়িতে বসে, দেশের অর্থনীতি ও জনজীবনে চরম প্রভাব পড়েছে। এই অবস্থায় মার্কিন সিনেট একটি দ্বিদলীয় প্রস্তাব পেশ করেছে, যার মাধ্যমে অচলাবস্থা কাটিয়ে প্রশাসনিক কার্যক্রম পুনরায় চালু করার চেষ্টা শুরু হয়েছে।
সিনেটে এই প্রস্তাবে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট দুই পক্ষেরই অংশগ্রহণ দেখা গিয়েছে, যদিও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতভেদ রয়ে গিয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, সরকারের বাকি দপ্তরগুলিকে আগামী ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হবে। পাশাপাশি কৃষি, ভেটেরান্স অ্যাফেয়ার্স ও আইনসভা সংক্রান্ত দপ্তরগুলিকে পূর্ণ বছরের জন্য অর্থায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
এই প্রস্তাব পাস হলে অচলাবস্থার কারণে চাকরি হারানো বা বেতন বন্ধ হওয়া ফেডারেল কর্মীদের পুনরায় কাজে ফেরানো হবে এবং তাদের বকেয়া অর্থও পরিশোধ করা হবে। তবে একটি বড় বিতর্কিত বিষয় রয়ে গিয়েছে, ‘অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্ট’-এর আওতায় স্বাস্থ্য বীমার ভর্তুকি বৃদ্ধি। আপাতত এই বিষয়ে ডিসেম্বরে সিনেটে আলাদা করে ভোট নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, কিন্তু সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
তবে এই প্রস্তাব কার্যকর হতে হলে শুধু সিনেট নয়, প্রতিনিধি সভাতেও পাস করতে হবে। এরপর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুমোদন পেলেই আইনটি কার্যকর হবে। যদিও ট্রাম্প সম্প্রতি সিনেটের ‘ফিলিবাস্টার’ প্রথা বাতিলের দাবি তুলেছিলেন, রিপাবলিকান নেতারা সেই প্রস্তাব নাকচ করেছেন। ফলে এখন ট্রাম্পের অবস্থানই হবে এই অচলাবস্থা শেষ হওয়ার মূল নির্ধারক।
প্রায় দেড় মাস ধরে চলা এই ‘শাটডাউন’-এর ফলে প্রশাসনিক পরিষেবা ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি ও বিমান চলাচলে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে, সরকারি অফিসগুলিতে ফাইলের জট জমেছে। কর্মচারীদের একাংশ দুঃস্থ অবস্থায় পড়েছেন। রাজনৈতিক মহলে চাপ বাড়ছে। কিছু ডেমোক্র্যাট সিনেটর ইতিমধ্যে রিপাবলিকানদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন, যা পরিস্থিতির গুরুত্বকেই ইঙ্গিত করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চুক্তি কার্যকর হলে স্বাভাবিক প্রশাসনিক কাজকর্ম ফের শুরু হবে, অর্থনৈতিক ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। তবে স্বাস্থ্যবিমা ভর্তুকি, সরকারি বাজেট ও ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে বিতর্ক দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। মার্কিন নাগরিকদের জন্য আপাতত আশার কথা যে দীর্ঘতম শাটডাউনের শেষ হতে চলেছে, যদিও সম্পূর্ণ সমাধান এখনও সিনেট ও হোয়াইট হাউসের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করছে।
