ওঙ্কার ডেস্ক: ইজরায়েল- আমেরিকার যৌথ হামলায় নিহত হয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনিই। সেই হামলার প্রতিবাদে একপ্রকার মধ্যপ্রাচ্য জালিয়ে দিতে মরিয়া তেহরান। প্রথমে আমেরিকার এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার আব্রাহাম লিংকনে হামলা চালায় ইরানের সেনা বাহিনী। এবার আমেরিকার অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান এফ-১৬ কে লক্ষ্যবস্তু করে ইরান, এমনটাই দাবি তুলেছে তেহরান। আমেরিকার এফ-১৬ যুদ্ধ বিমান ভেঙ্গে পড়ছে এই ভডিও সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পরেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমশ জটিল হয়ে ওঠা সামরিক পরিস্থিতির মাঝেই কুয়েতে ভেঙে পড়ল মার্কিন বায়ুসেনার একটি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান। সোমবার সকালে কুয়েতের আল জাহরা অঞ্চলের কাছে আকাশপথে নিয়মিত টহল ও সামরিক অভিযানের সময় মার্কিন বায়ুসেনার একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান আচমকাই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাটিতে আছড়ে পড়ে। ঘটনার পরপরই এলাকায় ঘন ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা যায় এবং বিস্ফোরণের শব্দে আশপাশের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আকাশে দ্রুতগতিতে উড়তে থাকা যুদ্ধবিমানটি হঠাৎ করেই দিকভ্রান্ত হয়ে পড়ে এবং কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই সেটি নিচের দিকে পাক খেতে খেতে নামতে থাকে। কিছু ভিডিও ফুটেজে বিমানের গায়ে আগুনের আভাসও দেখা গেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে ঠিক কী কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। যান্ত্রিক ত্রুটি, নাকি আক্রমণের জেরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছিল বিমানটি—তা নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা।
মার্কিন সামরিক সূত্রে জানা গেছে, বিমানে থাকা পাইলট এবং প্রয়োজনে সহ-পাইলট নিরাপদে ইজেক্ট করতে সক্ষম হন। তাঁদের দ্রুত উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য সামরিক ঘাঁটিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাঁদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলেই জানা গিয়েছে। দুর্ঘটনার পরপরই কুয়েতের নিরাপত্তা বাহিনী এবং দমকল কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং এলাকা ঘিরে ফেলে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কুয়েত অঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর একাধিক সামরিক ঘাঁটি রয়েছে এবং সেখান থেকে নিয়মিত নজরদারি ও প্রতিরক্ষা অভিযান চালানো হয়। ফলে এই ধরনের দুর্ঘটনা বা আক্রমণের ঘটনা কেবল সামরিক দিক থেকেই নয়, কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। ইতিমধ্যেই উপসাগরীয় আকাশপথে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।
ঘটনার জেরে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা সংঘাতের আবহে এই ধরনের ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও অস্থির করে তুলতে পারে বলেই আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। এখন নজর তদন্তের ফলাফল ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলির আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ার দিকে।
